নারায়নগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত হত্যার প্রধান আসামী নূর হোসেন কার সহায়তায়, কখন, কিভাবে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। নূরের সহায়তায় আরও যার যার নাম বেরিয়ে আসবে তাদেরও বিচার করা হবে বলেও জানান তিনি।
আজ সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। এত বড় ঘটনার পর নূর হোসেন কিভাবে ভারত পালিয়ে গেল সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের চারদিকেই বলতে গেলে ভারত। তাই যে কেউ যে কোনভাবে ভারত পালিয়ে যেতে পারে।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নূর পালিয়ে যাবার পরই আমরা ধরে নিয়েছিলাম সে ভারতেই পালিয়েছে। এখন যত দ্রুত সম্ভব তাকে ফেরত আনা হবে।
নূর হোসেন যে ভারতে ধরা পড়েছে সে ব্যাপারে আপনারা নিশ্চিত হয়েছেন কীনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা যা জেনেছেন তা শতভাগ সত্যি। তবে, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় আছি।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের সাথে আমাদের কোন বৈরি সম্পর্ক নেই। কোন প্রতিবেশি দেশের সাথেই আমাদের কোন বৈরিতা নেই। মাঝে মাঝে একটু ভুল বুঝাবুঝি হয়। যেমনটি মিয়ামনারের সাথে হয়েছে। আমরা দ্রুতই এসব ভুল বুঝাবুঝি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সেভেন মার্ডার মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ৫জন সহযোগীসহ শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় কলকাতার দমদম নেতাজী সুভাস চন্দ্র বোস বিমান বন্দরের পাশে কৈখালী এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ।
কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম স্কোয়াডের (এটিএস) এসিপি অনিমেষ সরকারের নেতৃত্বে একটি টিম এ অভিযান চালায়। কলকাতার দমদম পুলিশ স্টেশন থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্টেশনের একজন পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, কৈখালী এলাকার একটি ফ্ল্যাট বাসা থেকে নূর হোসেনসহ সাত খুন মামলার আসামি আনোয়ার হোসেন আশিক, সুমন, শামীমসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
নূর হোসেনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ইন্টারপোলের রেড ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে। সেভেন মার্ডারের পর ভারতে পালিয়ে থাকা সময়ে কৈখালী এলাকায় নিজেদের অসুস্থ রোগী পরিচয় দিয়ে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন নূর হোসেন ও তার সহযোগীরা। তবে বিভিন্ন মিডিয়াতে নূর হোসেনের ছবি প্রকাশ ও তাদের গতিবিধি সন্দেহ হলে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।
আজ রোববার দুপুরে তাদের স্থানীয় আদালতে হাজির করা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কলকাতায় নূর হোসেন গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, আমরা শুনেছি ভারতের পুলিশ নূর হোসেন ও তার কয়েক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে। তবে এ বিষয়ে অফিসিয়ালি কোনো মেসেজ আমরা পাইনি।
সেভেন মার্ডারের তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডল জানান, বিষয়টি আমরা শুনেছি। কিন্তু নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে ইন্টারপোলের ওয়ারেন্ট থাকায় তাকে গ্রেফতার করতে পারে ভারতের পুলিশ।
আলোচিত এ খুনের ঘটনায় ইতোমধ্যে র্যাবের চাকরিচ্যুত তিনজন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আরিফ হোসেন ও এম এম রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন যে নূর হোসেনের পরিকল্পনায় এ সাত খুনের ঘটনা ঘটে।
এছাড়া কামাল নামের এক ব্যক্তিও রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। এতে তিনি স্বীকার করেন নূর হোসেন হত্যাকাণ্ডের পর ভারতে পালিয়ে যান। তাছাড়া এমপি শামীম ওসমানের সঙ্গে নূর হোসেনের একটি ফোনালাপের অডিও প্রকাশ পায়।
সেভেন মার্ডার মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের বিরুদ্ধে গত ২৭ মে রেড ওয়ারেন্ট জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। ফ্রান্সভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানটি ২৭ মে বিকালে তাদের ওয়ানটেড পারসনের রেড ওয়ারেন্ট পাতায় নূর হোসেনের নাম সংযুক্ত করে।
এর আগে রেড ওয়ারেন্টভুক্ত করতে গত ২২ মে পুলিশ সদর দফতরকে চিঠি দেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসন। পরে পুলিশ সদর দফতর রেড ওয়ারেন্টের জন্য ইন্টারপোলকে চিঠি দেয়। নূর হোসেন বর্তমানে ভারতে পালিয়ে আছে নিশ্চিত হয়েছিল র্যাব।
ঢাকা, ১৫ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি





