দীর্ঘ নয় মাসের স্বাধীনতাযুদ্ধ শেষে বাংলাদেশ ও যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে মিত্রবাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করে। তাই ১৬ ডিসেম্বরকে বিজয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয় ।
কিন্তু জখন সেই দিবসেই লাঞ্ছিত হতে হয়, তখন কি মনে হয়না জীবন বাজি রেখে দীর্ঘ নয় মাসের স্বাধীনতার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ করে ছিলাম কি এই অপমানিত, লাঞ্ছিত হবার জন্য!
ঠিক তাই হলো জামালপুরের মেলান্দহে নজরুল ইসলাম নামে এক মুক্তিযোদ্ধা সাথে হয়েছেন।
আজ (শনিবার) মেলান্দহে বিজয় দিবসে মেলান্দহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
আহত মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি কান্না ধরে রাখতে পারেননি। তিনি জানান, উমির উদ্দিন পাইলট হাই স্কুল মাঠে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ শেষে তিনি সংসদ চত্বরে আসেন।
দুপুর ১টার দিকে সংসদে আসার সঙ্গে সঙ্গে মোহাম্মদ আলী, আবুল হোসেন, নাজিম উদ্দিনসহ পাঁচ-ছয়জন তাঁর ওপর হামলা চালান এবং তাঁকে মারধর করেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলে যায়, জখম হয়।
তবে হামলায় অংশ নেওয়া নাজিম উদ্দিন বলেন, তাঁরা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অপপ্রচার চালান নজরুল ইসলাম। এ কারণেই তাঁর সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম জানান, যাচাই-বাছাইয়ের নামে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় ভুয়া লোকজনকে অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে তিনি বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এতে তাঁরা তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। এর জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে মনে করা হচ্ছে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার পদে চলতি দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামীম আল ইয়ামিন বলেন, ‘সংসদে হট্টগোলের কথা শুনেছি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।’ তবে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আলহাজ এস এম আবদুল মান্নান এ বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
এএস





