শুক্রবার সকাল থেকে তিস্তা নদীতে পানি কমতে শুরু করলেও ভাঙতে শুরু করেছে পাড়। এতে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন তীরবর্তী ও আশপাশের এলাকার মানুষ।
পানি কমতে শুরু করায় বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। এরইমধ্যে খালিশা চাপানী ইউনিয়নের ৪টি রাস্তা ও টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ২টি রাস্তা ও ৩টি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন এ অঞ্চলের মানুষ।
অন্যদিকে, টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নে সিবিএমপি প্রোগ্রামের আওতায় ২৮ লাখ ৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ স্বপন বাঁধেও ভাঙন ধরেছে।
টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন ব্যক্তিগত উদ্যেগে বাশের পাইলিং ও বালির বস্তা ফেলে বাঁধটি রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। বাঁধটি ভেঙে গেলে কমপক্ষে ৫শ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে।
এদিকে, ত্রাণ সামগ্রীর অভাবে তীব্র খাদ্য সংকটে পড়েছেন ডিমলা উপজেলা উপজেলার পুর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খালিশা চাপানী, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এবং পশ্চিম ছাতনাই, পুর্ব ছাতনাই, ছাতুনামা, বাঘের চর, ঝাড়সিংহেশ্বরের নিম্নাঞ্চল ও চরবাসী।
খাদ্য সংকট ব্যাপক আকার ধারণ করায় ত্রাণ দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
খালিশা চাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুল হক জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হলেও চাল বরাদ্দ পেয়েছেন মাত্র ২ মেট্রিকটন। অপ্রতুল চাল নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সামনে গিয়ে দাঁড়ানো দুঃসহ যন্ত্রণার মতো। বাড়ি-ঘর পানিতে তলিয়ে থাকায় রান্না না হওয়ায় চিড়া-মুড়ি খেয়েই রোজা পালন করছেন চরাচঞ্চের মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নদীর ডালিয়া পয়েন্টে শুক্রবার সকাল ৬টায় বিপদসীমার (বিপদসীমা ৫২.৪০) ২ সেন্টিমিটার ও সকাল ৯টায় ৫ সেন্টিমিটার, দুপুর ১২টায় ১০ সেন্টিমিটার এবং বিকেল ৩টায় ১৫সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিম জানান, বন্যাকবলিত এলাকা সার্বিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানদের নদীর চরাঞ্চল ও তিস্তার পাড়ে বসবাসরতদের সার্বিক নজরে রাখতে বলা হয়েছে। সার্বক্ষণিকভাবে তিস্তা এলাকা মনিটরিং করা হচ্ছে।
জেআই





