সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুপক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আব্দুল খালেক পিয়াসকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাড়াশ সদর ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল সেখের থানায় অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ তাকে আটক করে।

তাড়াশ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হকের ওপর হামলার ঘটনায় সংসদ সদস্য গাজী ম.ম আমজাদ হোসেন মিলন, তার দুই ছেলে জার্জিয়াস মিলন ও জাকির হোসেন জুয়েল, ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন বিদ্যুৎ ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবেক লীগের সভাপতি আব্দুল খালেক পিয়াসসহ ১৪ জনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাড়াশ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল সেখ এ অভিযোগ দায়ের করেন। তবে মামলাটি নথিভুক্ত করা না হলেও পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার জড়িত থাকার দায়ে তাড়াশ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আব্দুল খালেক পিয়াসকে আটক করেছে।

মামলার দায়েরের পর থেকেই উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুপক্ষ মিছিল-পাল্টা মিছিল, সমাবেশ করেছে। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। উপজেলা সদরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। উপজেলার মধ্যে পুলিশ টহলের পাশাপাশি মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত র‌্যাব-পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, সন্ত্রাসী হামলার জন্য সংসদ সদস্যকে দায়ী করায় এমপির পক্ষের লোকজনের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তার সমর্থকরা সলঙ্গা বাজারে বিক্ষোভ মিছিলও করেছে।

অন্যদিকে, মামলার বাদী সদর ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল সেখ ঘটনার জন্য এমপিকে দায়ী করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়াও বিষয়টি সুরাহা করার জন্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংসদ সদস্যকে তলব করেছেন।

সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম খান জানান, থানায় একটি অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও নথিভুক্ত হয়নি- প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিল্লুর রহমান খান জানান, আওয়ামী লীগের বিবদমান দুটি গ্রুপ তাড়াশ বাজারে বিকেল সাড়ে ৩টা ও মহিষলুটি বাজারে বিকেল সাড়ে ৪টায় একই স্থানে সমাবেশ আহ্বান করে।

এতে সংঘর্ষের আশঙ্কায় তাড়াশ বাজার ও মহিষলুটি বাজার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে সংসদ সদস্য ম.ম. আমজাদ হোসেন মিলনের সঙ্গে রাজনৈতিক ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে অঘোষিতভাবে উপজেলা আওয়ামী লীগ দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

এমই