বান্দরবানে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটার মহোৎসবে মেতেছে প্রভাবশালী চক্র। পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে জনপ্রতিনিধিসহ ক্ষমতাসীন দলের মুষ্টিমেয় নেতা।
প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই নির্বিচারে পাহাড় কাটলেও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব ভূমিকায় রয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জেলা সদরের কালাঘাটা, বড়ুয়াটেক এবং শিশু পরিবার এলাকায় নির্বিচারে পাহাড় কাটা হচ্ছে। পৌর কাউন্সিলর অজিত কান্তি দাশের নামীয় জায়গায় স্কেভেটর দিয়ে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে ট্রাকে করে পাহাড়ের মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জায়গা ভরাটের জন্য। ট্রাক ড্রাইভার মোজাম্মেল’সহ ৭/৮ জন এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। এদিকে পাহাড় কাটার ছবি তোলতে গেলে গনমাধ্যমকর্মীদের উপর চড়াও হয় ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজ নেতা।
কালাঘাটার স্থানীয় বাসিন্দার আহাম্মদ কবির, নুর আহাম্মদ, উচনু মারমাসহ অনেকে বলেন, ঠিকাদার নুরুল আবছারসহ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা স্কেভেটর দিয়ে প্রকাশ্যেই দুই সপ্তাহ ধরে পাহাড় কেটে বিভিন্ন স্থানে ভরাট কাজের জন্য বিক্রি করে আসছে। প্রতিদিনই ভোর থেকে সন্ধ্যায় পর্যন্ত ৮/১০টি ট্রাক স্কেভেটর দিয়ে কাটা পাহাড়ের মাটি বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাসিন্দাররা বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য পাহাড়ের মাটি কাটলে প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে গ্রেপ্তার করে জেল জরিমানা আদায় করে। কিন্তু স্কেভেটর দিয়ে প্রকাশ্যে পাহাড় কাটলেও সরকারি সংস্থাগুলো এখন নিরব।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার নুরুল আবছার গনমাধ্যমকর্মীদের বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য মেয়রের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। উপায় না দেখে পাহাড় কেটে মাটি নিয়ে রাস্তার কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানান, অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটার কোনো সুযোগ নেই। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিমন/জারিফ





