জামালপুরের সরিষাবাড়ীর রেজাউল করিম হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি শিক্ষক আজমত আলী (৭০)। রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার আদেশে মুক্তি পেলেও ৯ বছর ধরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমায় মুক্তির তথ্য গোপন করে বাদী সুপ্রিম কোর্টে লিভ টু আপিল করায় জেলের ভেতর মৃত্যুর প্রহর গুণছেন সাজামুক্ত এই শিক্ষক। তার মুক্তির পথ চেয়ে আছে দরিদ্র পরিবারটি। বাবার মুক্তির আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে সন্তানেরা। আইনি জট খুলে কবে মুক্তি পাবে শিক্ষক আজমত আলী- সেটাই এখন তাদের প্রশ্ন।
আদালত, স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারাগারের নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৭ সালের পয়লা এপ্রিল জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পাখিমারা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন রেজাউল করিম (২০) নামের এক ব্যক্তি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫দিন পর মারা যান তিনি। ৬ এপ্রিল নিহতের বাবা কলিমুল্লাহ সরকার বাদী হয়ে সরিষাবাড়ী থানায় শিক্ষক আজমত আলীকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ১৯৮৯ সালের ৮ এপ্রিল জেলা ও দায়রা জজ আদালত আজমত আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন।
১৯৯১ সালের ১৪ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা শাখা-২ এর স্বারক নং-৬/পি ৭০/১০ কারা/২ আদেশের ৩ ও ২ অনুচ্ছেদ অনুসারে ১৯৯৬ সালের ২১ অক্টোবর মুক্তি পান আজমত আলী।
মুক্তির আগেই তার করা হাইকোর্টের আপিলে ২০০৫ সালের ২ মার্চ ওই মামলায় খালাসও পান তিনি। মামলার বাদী কলিমুল্লাহ সরকার রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার আদেশে আসামি আজমত আলীর মুক্তির বিষয়টি গোপন করে সুপ্রিম কোর্টে লিভ টু আপিল করার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট আসামিকে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে পুলিশ ২০০৯ সালের ১৯ অক্টোবর আজমত আলীকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
সেই থেকে ৯ বছর ধরে আইনি বেড়াজালে কারাগারে আটক রয়েছেন শিক্ষক আজমত আলী। এক বছর আগে মামলার বাদী কলিমুল্লাহ সরকারও মারা গেছেন।
শিক্ষক আজমত আলীর মেয়ে বিউটি বেগম (৩৮) বলেন, আমার বাবা রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমায় মুক্তির পর বাদী তথ্য গোপন করে সুপ্রিম কোর্টে লিভ টু আপিল করায় ৯ বছর ধরে জেল খাটছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি জেলে থাকায় আমাদের পরিবার দূর্বিসহ পরিস্থিতিতে পড়েছে। ৭০ বছর বয়সে জেলের ভেতরে নানা জটিল রোগে ভুগছেন তিনি। দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বাবার মুক্তির পথ খুঁজে পাচ্ছি না।
রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমায় মুক্তির কাগজপত্রাদি দেখে আমার বাবার মুক্তির বিষয়টি বিবেচনার জন্য বিচার বিভাগ ও সরকারের ঊর্দ্ধতন মহলের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি।
মামলার আইনজীবী জয়ন্ত কুমার দেব বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার আদেশে মুক্তির পর হাইকোর্টে লিভ টু আপিল করা যায় না’। বাদী সুচতুরভাবে তথ্যটি গোপন করে লিভ টু আপিল করেন। হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের দৃষ্টিগোচর হলে লিভ টু আপিল সুপ্রিম কোর্ট গ্রহণ করতো না। একাধিক বার জেলা ও দায়রা জজের কাছে এ বিষয়ে প্রার্থনা জানিয়েছি। জেলা ও দায়রা জজ ২০১২ সালের ৩ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার বরাবর অত্র আদালতের নিষ্পত্তিকৃত দায়রা মামলা নং ৪১/১৯৮৮ এর আসামি মো. আজমত আলীর অব্যাহতির বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান প্রসঙ্গে অফিসিয়াল চিঠি পাঠিয়েছেন।’
জামালপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. মুখলেছুর রহমান বলেন, কয়েদি আসামি আজমত আলী ৯ বছর ধরে জেলে রয়েছেন। তার বিষয়ে আমরা জেল কর্তৃপক্ষও সহযোগিতা করছি। আমরাও চাই তার মুক্তি হোক। সূত্র: পারিবর্তন ডট কম।
এসএম





