সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক জোটে বাংলাদেশ সরকার সেনাবাহিনী পাঠাতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী।
আজ (বুধবার) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সৌদি আরব সফর উপলক্ষ্যে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর আগে নব্বইয়ের দশকে যখন ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন কুয়েত দখল করেছিলেন, তখন সেখানে বাংলাদেশের সেনা সদস্যদের পাঠানো হয়েছিল সৌদি সরকারের অনুদানে নির্মিত কয়েকটি মসজিদ পাহারা দেয়ার জন্য।
মন্ত্রী বলেন, যেহেতু সেনাবাহিনী পাঠানোর নজির অতীতে রয়েছে তাই সৌদি আরব চাইলে সামরিক জোটেও সেনা পাঠাতে পারে বাংলাদেশ। তবে, যখন সৌদি আরব চাইবে তখন দেখা যাবে।
উল্লেখ্য, সৌদি আরব গত ১৪ ডিসেম্বর ঘোষণা করে, তারা ৩৪টি মুসলিম দেশ নিয়ে একটি সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক জোট গঠন করেছে। এই জোটে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসরসহ সুন্নিপ্রধান দেশগুলো যোগ দিয়েছে। তবে ইরান, ইরাক ও সিরিয়াসহ কয়েকটি মুসলিম দেশ এতে যোগ দেয়নি।
সৌদি আরব সন্ত্রাসবিরোধী এই জোট গঠনের ঘোষণা দেয়ার পর পরই বাংলাদেশ রিয়াদে সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে এই জোটে যোগদানের কথা ঘোষণা করে।
এদিকে, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশী নারীরা নির্যাতন শিকার হচ্ছেন বিশেষ করে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন-এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এখন থেকে প্রত্যেক নারী শ্রমিকের সাথে হয় তার বাবা অথবা আপন ভাই শ্রমিক ভিসায় সৌদি আরব যেতে পারবেন এবং তারা একই বাসায় কাজ করার সুযোগ পাবেন।
কিন্তু এই নিয়ম যদি লঙ্ঘন করা হয় তখন কি হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেহেতু নিয়মটিই হচ্ছে ভাই অথবা বাবা সাথে যাবেন, তাই এই প্রশ্ন আসছে কেন?
তবে, সৌদি আরবে যেসব নারী এরই মধ্যে গিয়েছেন এবং নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তাদের উদ্ধারে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কীনা-এমন প্রশ্নের কোন জবাব দেননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩-৭জুন সৌদি আরবে রাষ্ট্রীয় সফর সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৩ জুন অপরাহ্নে ঢাকা থেকে বিশেষ ফ্লাইটে রওয়ানা হয়ে ঐদিন সন্ধ্যায় জেদ্দা পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। ওই রাতেই মক্কা শরীফে পবিত্র ওমরা পালন করবেন তিনি।
৫ জুন সৌদি আরবের বাদশার সাথে প্রধানমন্ত্রী জেদ্দায় রাজকীয় প্যালেসে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। সালমান বিন আব্দুল আজিজ সৌদি আরবের বাদশাহ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম সফর।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে উভয় রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণ, দুদেশের মধ্যে বিরাজমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ়করণ এবং সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হবে।
আলোচনায় সৌদি আরবে বাংলাদেশীদের জন্য শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অধিক হারে সৌদি সহায়তা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতা ও হজ্জ ব্যবস্থাপনাসহ নানা বিষয় প্রাধান্য পাবে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে MOU on Foreign Office Consultation (FOC), সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং তথ্য প্রযুক্তি খাতে সহযোগীতা বিষয়ে চুক্তি/সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে বলেও জানান মন্ত্রী।
এ সফরকালে সৌদি আরবের ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স, উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী, শ্রম মন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রীসহ সৌদি নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন।
চারদিনের সফর শেষে ৭ জুন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে মদীনা থেকে সরাসরি ঢাকা ফিরবেন বলেও সাংবাদিক সম্মেলন জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এছাড়া, ২৬-২৯ মে প্রধানমন্ত্রীর জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে জাপান সফর সম্পর্কেও বিস্তারিত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
কেবি





