ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের চন্দ্রাকে ঘিরে ৫৬ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে গাবতলী থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত অচল হয়ে যায়। অথচ ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতকে সহজ করতে মহাসড়কে পুলিশকে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় দেখা গেছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টাঙ্গাইলের গোড়াই পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া কালিয়াকৈর নবীনগর মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে নবীনগর পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার সড়কেও একই রকম যানজট রয়েছে।
যানবাহনগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে অনঢ় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। রাতভর থাকা এ যানজটে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের অনেকেই একই স্থানে বসে থাকতে হয়েছে কয়েক ঘণ্টা।
ঈদের আগে ও পরে ছয়দিন মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ হলেও পণ্যবোঝাই ট্রাক যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে যাত্রীবোঝাই ট্রাকও। এ ছাড়া যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাসের সঙ্গে রয়েছে মাইক্রোবাসও।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর বাসস্ট্যান্ডে কথা হলো বগুড়াগামী ভুট্টা বোঝাই একটি ট্রাকের চালক মমিন হোসেনর সাথে।
তিনি জানান, জ্যাম ঠেলে ঠেলে চাঁদপুর গিয়েছিলেন ৩/৪দিন আগে। আবার গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যা ৭টায় চাঁদপুর থেকে বগুড়ার পানে ছুটছেন।
ঈদের আগে এবং পরে পণ্যবোঝাই ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধের খবর জানেন বলে স্বীকার করেন ট্রাকের এই চালক। তবে তিনি বললেন, পথে পথে তিনি পুলিশের মুখ বন্ধ করেই সফিপুর পর্যন্ত আসতে পেরেছেন। পুলিশ চাঁদা তোলা ছাড়া পথে কিছুই বলেনি তাকে।
জানা যায়, স্বল্প সংখ্যক পুলিশ যানজটের মধ্যে কোনাবাড়ি, সফিপুর, চন্দ্রা ত্রিমোড়ে নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে আছেন। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুরে দাঁড়িয়ে থাকা বলাকা পরিবহনের একটি বাসের চালক ও হেলপারকে গায়ে গা লাগিয়ে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা গেছে।
কাছে গিয়ে ঘুম ভাঙিয়ে ডেকে তুলে ঘুমানোর কারণ জানতে চাইলে তারা জানান, দুইদিন ধরে যাত্রী পরিবহনের কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তাই ঘুমিয়ে পড়েছেন।
যানজটের তীব্রতার কারণে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। ঢাকার কারওয়ান বাজার এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জহুর আহমদ চৌধুরীর বলেন ঢাকার কল্যাণপুর থেকে রংপুরগামী এস আর পরিবহনের একটি বাসের যাত্রী তিনি।
জহুর আহমদ জানান, কল্যাণপুর থেকে রাত সাড়ে ৩টার দিকে রওনা হয়েছেন। আমিন বাজার থেকেই তার বাসটি যানজটে পড়ে। দুই ঘণ্টায় সাভারের নবীনগর এলাকায় পৌঁছলেও তার পরের দুই ঘণ্টায় আর একচুলও নড়েনি বাসটি।
এদিকে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পরযন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কে ট্রাকসহ বিভিন্ন রকম যানবাহন ধীর গতিতে চলতে দেখা গেছে। তবে এ পথে ভোগড়া মোড়ে একজন কনস্টেবলকে রাস্তায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
গাজীপুর জেলা ট্রাফিক পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন যানজটের সত্যতা নিশ্চিত (সকাল ৭টা ৫২ মিনিটে) করেছেন।
তিনি বলেন, ভোর বেলা কালিয়াকৈর উপজেলার খাড়াজোড়া এলাকায় একই স্থানে একটি ট্রাক ও একটি বাস নষ্ট হয়ে যায়। এ সময় ছোট যানবাহন যেমন মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল রংসাইড দিয়ে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি করে।
রেকার গিয়ে বিকল যানবাহন দুটো সরাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগে যায়। খুব তাড়াতাড়ি যানজট নিরসন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এমকে





