পূর্বের পাওনা টাকা চাওয়ায় ঢাবি ছাত্রলীগ নেতা ক্ষিপ্ত হয়ে অশালীন ভাষায় গালি ও হলের দোকানিকে মারধর করার অভিযোগ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের এক দোকানিকে মারধর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সায়েম মোহাম্মদ সানাউল্লাহ। বিশ্ববিদ্যালয়ে এডওয়ার্ড সায়েম নামেও পরিচিত তিনি। তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের অনুসারী। গত শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে দোকানে যান ছাত্রলীগ নেতা সায়েম। এ সময় দোকানদার সায়েমের কাছ থেকে পূর্বের পাওনা টাকা চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন সায়েম এবং অশালীন ভাষায় গালি দেন। সূত্র: ইত্তেফাক

এ সময় দোকান মালিক আজগর গালির প্রতিবাদ করলে ৫ মিনিটের মধ্যে দোকান বন্ধের আল্টিমেটাম দেন সায়েম। কিন্তু তা না করায় মারধর শুরু করেন ছাত্রলীগের এই নেতা।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মালিক আজগর বলেন, ‘সায়েম ভাই প্রতিদিনেই কোনো কারণ ছাড়া গালাগালি করে। গালাগালি করার জন্য আমার দোকানের কর্মচারীরা থাকে না।'

মালিক আজগর বলেন, ‘সকালে তিনি দোকানে এসে গালাগালি শুরু করেন। কেন গালাগালি করলেন, তা আমি জানিনা।

আমি ভাইকে বলেছি ভাই গালাগালির জন্য আমার লোক থাকে না। পরে, আমি বলেছি, এভাবে গালাগালি করলে তো দোকান চালাতে পারব না। তখন সে (সায়েম) আমাকে বলে, পাঁচ মিনিটের মধ্যে দোকান বন্ধ করে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাবি। এর ঠিক পাঁচ মিনিট পরই আমাকে ভেতর রেখেই দোকান বন্ধ করতে শুরু করল সে। আমাকে মারধর শুরু করে।'

হল প্রভোস্ট মাহবুবুল আলম জোয়ার্দার বলেন, সকালে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে আমরা একটা তদন্ত কমিটি গঠন করবো। পরে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে।

হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগ নেতা সায়েমসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ ছাত্রনেতার এমন আচরণের কারণে দোকানগুলোর কর্মচারীরা বেশিদিন থাকে না। এর আগে এই ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে পলাশীতে মারধর, শহীদ মিনারে সাংবাদিকের মোবাইল ভাংচুরসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ ওঠে।

ফুলার রোডে বসা ছেলে-মেয়ের মোবাইল ও বাইক আটকে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে এসএম হলের ভিপি (সহ-সভাপতি) মোজাহিদ কামাল বলেন, বিষয়টা আমি শুনেছি। এ সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।

এএস