ঝলমলে রঙিন স্বপ্ন ছিলো সাবুর চোখে। এই ফাল্গুনেই বিয়ে হওয়ার কথা। গত শুক্রবার মানিকগঞ্জে এসে মেয়েকে নাকফুল পরিয়ে আশির্বাদও করে যায় সাবুর পরিবার। কিন্তু শেষমেস সাবুর সেই স্বপ্ন ডুবে গেলো সর্বনাশা পদ্মায়।
রোববার লঞ্চ দুর্ঘটনায় মারা যান কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়া মন্ডলপাড়ার গ্রামের সাবু (২৮), তার মা মদিনা খাতুন (৫৭) ও ভাতিজি মুক্তা (১২)। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, সাবুর বড় ভাই লাবু মিয়া মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর তিনি সেখানেই স্থায়ীভাবে বাস করছেন। ছোট ভাই লাবুর সঙ্গে তার শালিকাকে বিয়ে দেয়ার কথাবার্তা আগে থেকেই পাকা ছিলো। গত শুক্রবার কুষ্টিয়া থেকে লাবুর ছোট ভাই তার মাকে নিয়ে দৌলতপুরের বাঘুটিয়া ইউনিয়েনের চরকাটারি পাড়া গ্রামে মেয়েকে দেখতে আসেন। ছেলের হবু বউকে নাকফুল পরিয়ে আশির্বাদ করেন মা মদিনা খাতুন। এরপর বোরবার সাবুর বড় মেয়ে মুক্তাও তার নানীর সঙ্গে কুষ্টিয়া যাওয়ার জন্য রওনা দেয়। কিন্তু কেউই আর শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফিরে যেতে পারেননি। তিনজনই পদ্মায় লঞ্চডুবিতে মারা যান।
এদিকে, মা-মেয়ে ও ভাইকে হারিয়ে পাগলপ্রায় সাবুকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সবাই একনজর মুক্তাকে দেখার জন্য ভিড় করছেন সাবুর বাড়িতে। মুক্তা বাঘুটিয়া আলিম মাদরাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।
উল্লেখ্য, গত রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিবালয় উপজেলার পদ্মার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় ঘাট থেকে এমভি মোস্তফা দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ১৫মিনিট পরই কার্গো জাহাজ নার্গিস-১-এর ধাক্কায় লঞ্চটি পাটুরিয়ার অদূরে পদ্মায় ডুবে যায়।
কেএইচ





