ভোলার চরফ্যাসন পৌর শহরের জনতা রোডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৩০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের ধারণা অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

গতকাল (২৭ জানয়ারী) রোববার রাত ১২টায় চরফ্যাসন পৌর শহরের জনতা রোডের পশ্চিম উত্তর কর্ণারে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে চরফ্যাসন ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট প্রায় ১ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ অগ্নিকাণ্ডে ফ্যাসন গার্মেন্টস, নিউ স্টার প্লাস, ফ্যাসন খেলাঘর, মঞ্জু ড্রাগ হাউজ, মাইশা ব্রিক্স অফিস, স্বপ্নিল গার্মেন্টস, ক্যামেলিয়া গার্মেন্টস, সাথী বস্ত্রালয়, ঝিনুক স্টুডিও, মডার্ন বুক হাউজ, মালিহা বুক ডিপো, প্যারাডাইস বুক কর্ণার, সরকার বুক ডিপো, রাকিব মটরস, সোহাগ স্টোর, সাজু ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোর, নিপা কসমেটিক্স, অঙ্গ বিলাস, ইফাত স্টোর, আইএ ফ্যাশন, সোহাগ স্টোর, ফরাজী গার্মেন্টস, বিসসিল্লাহ গার্মেন্টস, শিল্পী ইলেট্রনিক্স, ইয়াং ফ্যাশন, মহিমা গার্মেন্টস’সহ প্রায় ৩০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে যায়।

প্রতক্ষ্যদর্শী ও ব্যবসায়ীরা জানান, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের  সূত্রপাত ঘটতে পারে। সেখান থেকে আগুন চারদিকে দ্রুত ছড়িয়ে পরে। চরফ্যাসন সদর রোডের পূর্ব দক্ষিণ পাশ ও জনতা রোডের পশ্চিম উত্তর কর্ণার থেকে আগুন লাগে। এতে সদর রোডের পূর্ব পাশ হোটেল রাজ এরপর থেকে শুরু করে দক্ষিণে জনতা রোড পর্যন্ত ও জনতা রোডের পশ্চিম মাথা থেকে পূর্ব দিকে রূপালী ব্যাংক পর্যন্ত প্রায় ৩০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী জানান, পর্যাপ্ত পানির উৎস না পাওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে ফায়ার সার্ভিস কর্মিদের হিমশিম খেতে হয়েছে। এ কারণেই এতোগুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়েছে।

এদিকে চরফ্যাশন জনতা রোডে আগুণে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের খবর নিতে ও এলাকা পরির্দশনে আসেন সাবেক মন্ত্রী ভোলা-৪, সংসদ সদস্য আলহাজ্বআবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দেখা করেন। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানান।

এছাড়া ভোলা-৪, চরফ্যাশন-মনপুরার সাবেক সংদস সদস্য আলহাজ্বনাজিম উদ্দিন আলম চরফ্যাশন জনতা রোডে আগুন লেগে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

চরফ্যাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মু. এনামুল হক বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চরফ্যাশন, লালমোহন ও তজুমদ্দিনের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ১ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে একাধিক গার্মেন্টস, বই দোকান, পার্টসের দোকান, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও কসমেটিকস, ইলেট্রনিক্সসহ ৩০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। আগুনে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

শাহীন/এমবি