কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বঙ্গপসাগরে ইলিশ মাছ ধরে ফেরার পথে বরগুনার বলেশ্বর নদীর মোহনা থেকে ১০০মন মাছ, ৭ ট্রলার এবং ১১০ জেলেকে আটক করেছে কোস্টগার্ড সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাথর ঘাটার কোস্টগার্ড সদস্যরা এসব আটক করে  একইসঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালত আটকজেলেদের বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানা করে।

অপরদিকে  গত ১৫ অক্টোবর রাত ১২টায় নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বরগুনার পাথরঘাটা থেকে শত শত মাছ ধরা ট্রলার সাগরে যাচ্ছে। তবে ১৬ অক্টোবরও প্রশাসনের অভিযান থাকায় আটকের ভয়ে অনেকে সাগরে নামছে না। এসব ট্রলার বৃহস্পতিবার থেকে সাগর ও নদীতে ইলিশ শিকারে যাবে বলে জানা গেছে।

পাথরঘাটা কোস্টগার্ড সাংবাদিকদের জানায়, ৫ অক্টোবর ইলিশ শিকারের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার আগে কিছু অসাধু জেলে আইন অমান্য করে ইলিশ শিকারের উদ্দেশে গভীর সাগরে চলে যায়। সেখানে গিয়ে অবৈধ ভাবে ইলিশ শিকার করে মজুদ রাখে। ১৫ অক্টোবর রাত ১২টায় নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হয়ে গেলে ওইসব অসাধু জেলেরা কিনারে আসতে শুরু করে।

এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ১১০ জেলেসহ ৭টি ট্রলার আটক করে। আটক হওয়া ট্রলারগুলো হচ্ছে- এফবি ভাই ভাই-১, এফবি আল্লারদান, এফবি আবদুল্লাহ্, এফবি তরিকুল ইসলাম, এফবি সোহেল, এফবি মা-মনি এবং এফবি ভাই ভাই।

এফবি তরিকুল ট্রলারের জেলে মনির হোসেন বলেন, মালিক মোগো ধারে অনেক টাহা পাইবে, এ্যাহোন (এখন) হ্যারা (তারা) য্যা কয় মোরা হেইয়া হরি (করি), মোগো অবরোধের আগে ট্রলার লইয়া সাগরে যাইতে কইছে, হেইজন্যে মোরা গেছি।

ফোরকান নামে অন্য এক জেলে বলেন, মোরা পেটের দায়ে অবরোধ জানার পরও সাগরে মাছ ধরতে গেছি, যাওয়া ঠিক হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, যাওয়া ঠিক হয় নাই হ্যা মোরাও বুজি, তাইলে খামু কি?।

এ ব্যাপারে পাথরঘাটা কোস্টগার্ড ক্যাম্পের স্টেশন কমান্ডার লে. রাহাতুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, ১১দিনের নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে অনেক ট্রলার গভীর সাগরে অবৈধ ভাবে ইলিশ শিকার করে মজুদ রেখেছে। ওইসব ট্রলার ১৫ অক্টোবর রাত ১২টার পর কিনারে আসতে থাকলে তাদের আটক করা হয়।

একে