বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজের একাংশ সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়নে সরকারকে অভিনন্দন জানালেও কয়েকটি বিষয়ে উদ্বেগ জানিছে।

শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের বৃহত্তম এই সংগঠনের একাংশের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাদের এই উদ্বেগের কথা জানায়। সংগঠনের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল এবং মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

লিখিত বক্তব্যে মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, “জাতীয় সম্প্রচার নীতি সাংবাদিকেরই দাবির ফসল। পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে আমরাই একটি সম্প্রচার নীতি চেয়েছিলাম। ২০১০ সনের ৬ আগস্ট ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থকে আমি এ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করি। সরকার আমাদের দাবির প্রতি সন্মান দেখিয়ে এই নীতিটি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন- সেজন্য সরকারকে, বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। সরকারের এই উদ্যোগ ইতিবাচক বলেই আমরা মনে করি।”

তিনি বলেন, “উদ্যোগটি ভালো, কিন্তু খসড়ার কোনো কোনো বিষয়ে আমাদের কিছু উদ্বেগ রয়েছে। সেই উদ্বেগ জানাচ্ছি এই কারণে যে, আমাদের উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে এই ভালো উদ্যোগের ফসল হিসেবে যাতে শেষ পর্যন্ত এটি একটি ভালো আইনে পরিণত হয়। তথ্য অধিকার আইন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট, কমিউনিটি রেডিও ও এফএম রেডিও প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের মতো এই উদ্যোগটিও যাতে সাংবাদিক সমাজের অন্যতম অর্জন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

এ সময় তিনি খসড়া নীতিমালার বিভিন্ন পয়েন্ট উল্লেখ করে এ সম্পর্কে সাংবাদিকদের উদ্বেগের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

এই সম্প্রচার নীতিমালার আলোকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে সম্পাদকীয় নীতিমালা প্রণয়ণ করতে হবে এ সম্পর্কে এই সাংবাদিক নেতা বলেন, “স্পষ্টভাবেই বলতে চাই, এই নির্দেশনাটি ভয়ংকর ও অগ্রহণযোগ্য। এটি দেশে ও বিদেশে ভুল বার্তা দেবে এবং সরকারের বিরূদ্ধে অপপ্রচারণা চালানোর সুযোগ করে দেবে এই বলে যে, সরকার সম্প্রচার মাধ্যমের সম্পাদকীয় স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করতে চায়। কারণ সরকারি নির্দেশনায় কখনই কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকীয় নীতিমালা তৈরি হয় না। প্রতিটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সম্পাদকীয় নীতিমালা থাকে, সেটির অনুসরণ নিশ্চিতকরণের দায়িত্ব কোনো কমিশনের নয়। প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগেই তার সম্পাদকীয় নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে থাকেন। কোনো প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে কেউ ভিন্নমত প্রকাশ করতে পারেন, কিন্তু ওই নীতিমালার জন্য তাকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করতে পারেন না। এটিই হচ্ছে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা।”

তিনি বলেন, “আমাদের সবচাইতে বড় উদ্বেগের বিষয় নীতিমালায় বলা হচ্ছে সম্প্রচার ও সম্প্রচার কমিশন সম্পর্কিত আইন, বিধিমালা এবং নীতিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত তথ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রচার সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ। যেহেতু ষষ্ঠ অধ্যায়ে বর্ণিত সম্প্রচার কমিশন কতদিনের মধ্যে গঠিত হবে সে বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই, সেহেতু এই কথা বলবার সুযোগ আছে যে, মন্ত্রণালয় বাড়তি ক্ষমতা প্রয়োগের জন্যই এই নীতিমালাটি প্রনয়ণ করছে। এটি দেশে ও বিদেশে ভুল বার্তা দেবে এবং সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারণা চালানোর সুযোগ দেবে। প্রচলিত ক্ষমতা বলেই তথ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নানা নির্দেশনা দিতে পারে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। কিন্তু মন্ত্রিসভায় খসড়া পাসের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করে নীতিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর করার উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সেই বার্তাটি দেয়া হচ্ছে কিনা সে প্রশ্ন ওঠতেই পারে।”

এই প্রেক্ষাপটে বিএফইউজের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়-স্বল্পতম সময়ের মধ্যে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি স্বাধীন সম্প্রচার কমিশন গঠন করার, সেই সম্প্রচার কমিশনকে সময় বেধে দেয়া, যে সময়ের মধ্যে অংশীগ্রহণকারীদের সঙ্গে পরামর্শ করে কমিশন সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের এবং স্বাধীন সম্প্রচার কমিশন গঠনের আগে এই নীতিমালার কোনো ধারা প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহবান জানান সংগঠনটি।

ঢাকা, ৯ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ