অশ্লীল দৃশ্য ধারণ এবং পরে তা বিভিন্ন মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেনের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবকসহ স্থানীয়রা স্কুল বন্ধ করে সোমবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি জরুরি সভা করে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়।
গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেব দুলাল জানান, দুর্নীত, অনিয়ম ছাড়াও শনিবার স্কুলের সহকারী এক শিক্ষকের স্ত্রীর গোসলের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পরিবারসহ স্কুলের একই কোয়ার্টারে থাকতেন। প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন এ সুযোগে স্কুলের ওই সহকারী শিক্ষকের স্ত্রীর গোসল করার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করেন।
বিষয়টি নিয়ে রবিবার তোলপাড় শুরু হলে ওই প্রধান শিক্ষক ভিডিওর কথাটি অস্বীকার করেন। কিন্তু স্থানীয়রা প্রধান শিক্ষকের ছেলের মোবাইল ফোনে ধারণ করা দৃশ্যটি দেখে ফেলেন।
এদিকে, সোমবার সকালে প্রধান শিক্ষকের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবকসহ স্থানীয়রা স্কুল বন্ধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। একপর্যায়ে তারা মালিগ্রাম-কালামৃধা আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে রাখেন। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিলও করেন তারা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় ভাঙ্গা থানা পুলিশ। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আলগমীর হোসেনও ব্যর্থ হন। পরে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি জরুরি সভা করে প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ঘটনা। ওই ঘটনায় আমি জড়িত নই। স্থানীয় কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে এ অপবাদ দিচ্ছে।’
সহকারী ওই শিক্ষকের স্ত্রী বলেন, ‘যা ঘটেছে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমি এখন মুখ দেখাতে পারছি না। শুনেছি ভিডিও অনেকের কাছে ছড়িয়ে পড়েছে।’
কালামৃধা গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শফিকুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। আমরা সাময়কিভাবে প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করেছি। দোষী হলে অবশ্যই তাকে সাজা পেতে হবে।’
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। অভিযোগ পেলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভাঙ্গা থানার নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। থানা পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে বলা হয়েছে। আপাতত প্রধান শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।’
জেআই





