২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে ধসে পড়েছিল ৯ তলা ভবন রানা প্লাজা। ছয় বছর পার হয়ে গেলেও এ ঘটনায় হতাহত শ্রমিক ও তার স্বজনেরা সুবিচার পাননি। বিচার হয়নি অভিযুক্তদের। মামলাগুলোর তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।
'উপুড় হওয়া যাবে না, একনাগাড়ে বেশিক্ষণ বসে থাকাও যাবে না, হাঁটতে হবে খুব ধীরে।' ভয়াবহতম রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে মেরুদণ্ড ভাঙা ফ্যান্টম টেক কারখানার শ্রমিক জেসমিনের জন্য চিকিৎসকদের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্র এটি।
কিন্তু এই ব্যবস্থাপত্র মানলে জীবন চলে না। তিনি বলেন, 'ভাই রে, এক সপ্তাহ আগেও ডাক্তারের কাছে গেছিলাম। ডাক্তারের সোজাকথা, যেসব নিয়মকানুন দিয়েছেন, তা মানতে হবে।
দুজন আসামির পক্ষে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বহাল থাকায় রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ প্রায় তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। একই ঘটনায় ইমারত নির্মাণ আইনের মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ বন্ধ আছে।
কেবল রানা প্লাজা ভবন নির্মাণসংক্রান্ত দুর্নীতির মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। ঢাকা জেলার সরকারি কৌঁসুলির (পিপি) দপ্তর থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আহতদের নিয়ে একটি সমিতি গঠন করা হয়েছে। এই সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন সমকালকে জানান, রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পর যত দিন যাচ্ছে, ততই আহতদের কথা সবাই ভুলে যাচ্ছে। শরীর আগের চেয়ে খারাপ হওয়ার কারণে বেশির ভাগই বেকার হয়ে পড়েছেন।
গত এক থেকে দেড় বছরে সাভার এলাকা এবং আশপাশের গ্রামগুলোতে থাকা শ্রমিকদের বেশির ভাগই চলে গেছেন নিজের গ্রামের বাড়িতে। সাদ্দাম হোসেনের বক্তব্যের সত্যতা উঠে এলো চলতি মাসেই প্রকাশিত উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা অ্যাকশনএইডের সর্বশেষ গবেষণায়।
এ গবেষণা অনুযায়ী, রানা প্লাজার আহত শ্রমিকদের বেকারত্বের হার বাড়ছে।ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে, বর্তমানে এই হার ৫১ শতাংশে পৌঁছেছে।
অথচ ২০১৬ সালে এই হার ছিল ৪২ শতাংশ এবং ২০১৭ সালে ছিল ৪৮ শতাংশ। আগের চেয়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে ২০ শতাংশ শ্রমিকের।
এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে গড়া হাইকোর্ট বেঞ্চ ভেঙে যাওয়ায় যথাযথ ক্ষতিপূরণ পেতে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন হতাহত ও তাদের স্বজনেরা। তবে ওই দুর্ঘটনার পর ছয় বছরে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগে কারখানা নিরাপত্তা, তদারকি, শ্রমিকের মজুরি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার অগ্রগতি হয়েছে।
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে আজ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনও অনেক কারখানার মান উন্নয়নের কাজ বাকি রয়ে গেছে। এ ছাড়াও সরকারি উদ্যোগে কারাখানাগুলোর পরিবেশ ও শ্রম অধিকার রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতারও ঘাটতি রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর উন্নতি না এলে তা ভবিষ্যতে তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায় আবারও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
জানতে চাইলে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, রানা প্লাজা ধসের ছয় বছর পার হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই এখনও কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। বছরের পর বছর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছেন।
এএস





