অবশেষে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে এমপিও দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে লিখিত নির্দেশনা পাওয়ার পর এপ্রিলের এমপিও (বেতন-ভাতা) নতুন স্কেলে দেয়ার আদেশ জারি করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এপ্রিলের এমপিও নতুন স্কেলে দেয়া এবং সেই সঙ্গে ৯ মাসের বকেয়া পরিশোধের লক্ষ্যে একটি আদেশ তৈরি করে রেখেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন। ওই সভায়ই এপ্রিলের এমপিও নতুন স্কেলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এ পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বৃহস্পতিবার একটি আদেশ জারির কথা ছিল। কিন্তু সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কোনো লিখিত নির্দেশনা না পাওয়ায় নতুন স্কেলে এমপিও দেয়ার আদেশ এদিন জারি করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে কাল বা সোমবার এ সংক্রান্ত আদেশ জারির সম্ভাবনা আছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রুহী রহমান বৃহস্পতিবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষকরা আগামী মাস থেকে যাতে নতুন স্কেলে এমপিও পান সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। এর চেয়ে বেশি কিছু এ মুহূর্তে বলা যাবে না।’

১৫ মার্চ যুগান্তরে ‘জুলাইয়ের আগে নতুন স্কেলে এমপিও নয়’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে নতুন স্কেলে এমপিও প্রদানে বিভিন্ন শর্ত আরোপ এবং এ কারণে এমপিও পিছিয়ে যাওয়ার আশংকা তুলে ধরা হয়। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর শিক্ষকদের আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণায় নড়েচড়ে বসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দ্রুত নতুন স্কেলে এমপিও দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়।

এমপিও ইস্যুতে পে-কমিশনের সুপারিশ ছিল, সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের ৬ মাস পর ‘যাচাই-বাছাইসাপেক্ষে’ এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে নতুন স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। বিষয়টি সচিব কমিটিও চূড়ান্ত করে। কিন্তু ১৫ ডিসেম্বর পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের পর এমপিও বিষয়ে কোনো নির্দেশনা না থাকায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০ ডিসেম্বর একটি পরিপত্র জারি করে। এতে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তাদের মতোই ২০১৫ সালের জুলাই থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু এ সংক্রান্ত অফিস আদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সার্বিক পর্যালোচনার পর যোগ্যতাভিত্তিক এমপিও দেয়ার কথা উল্লেখ আছে। ফলে অর্থ মন্ত্রণালয় আগের অবস্থানেই থাকে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দু’জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বুধবার অর্থ সচিবের সঙ্গে বৈঠকে তারা জানিয়েছেন, যোগ্যতা যাচাই করেই প্রতিষ্ঠানকে এমপিও দেয়া হয়। এ নিয়ে নতুন করে কোনো মূল্যায়নের প্রয়োজন নেই। এটা করতে গেলে সারা দেশে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়বে। সেটা সরকারের জন্য বিব্রতকর হবে। এমন অবস্থায় অর্থ মন্ত্রণালয় এখন নতুন স্কেলে এমপিও দিতে রাজি হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নতুন সারসংক্ষেপ অনুমোদন লাগবে বলেও সূত্র জানায়।

আরেকটি সূত্র জানায়, এখন এপ্রিল মাসে নতুন স্কেলে বর্ধিত হারে এমপিও দেয়া হবে। বকেয়া দিতে আরও ২-৩ মাস সময় লাগতে পারে। নতুন স্কেলে এমপিও দেয়ার সব হিসাব-নিকাশ এবং আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে সংশ্লিষ্ট অধিদফতরগুলো।

উল্লেখ্য, নতুন স্কেলে শিক্ষকদের এমপিও বা বেতন-ভাতা গড়ে ৪৮ ভাগ বেড়েছে। গত জুলাই থেকে ২০ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা দেয়া হয়েছে। সে হিসাবে এখন বকেয়া জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত লাগবে ২ হাজার ৪৬৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এরমধ্যে বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার বেতন-ভাতা বাবদ ২ হাজার ৩৮৩ কোটি ২২ লাখ ৮২ হাজার ৯০০ টাকা এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ৮৫ কোটি ৯৪ লাখ ৪৪ হাজার ১৯৪ টাকা।

মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী এমপিও পাচ্ছেন। এরমধ্যে সাধারণ স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় ৪ লাখ ৭৯ হাজার ২৯২ জন। কারিগরি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় ১৭ হাজার ৩৭৬ জন।

এমই