দলীয় শৃঙ্খলা ও সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে অবশেষে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মজিবর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদের মিলনায়তনে জেলা আওয়ামী লীগের এক বর্ধিতসভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাদেক হোসেন চৌধুরী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন- গত ৬ জুন বান্দরবান রাজার মাঠে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে হামলার ঘটনায় ২৩ জুলাই তদন্ত রিপোর্ট পেশ করা হয়।

৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি ৪৪ দিন ধরে তদন্ত পরিচালনা করেন। তদন্তে ওই ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মোঃ মজিবর রহমানের সংশ্লিষ্টার প্রমাণ মিলে।

তদন্ত কমিটি ঘটনার মজিবর রহমানকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন প্রদান করেন। পরে তদন্ত প্রতিবেদন ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যানির্বাহী কমিটির সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে কাজী মজিবর রহমানকে প্রাথমিকভাবে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৬ জুন রাজার মাঠে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন চলাকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের উপস্থিতিতেই জলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মজিবর রহমানের নির্দেশে আহসানুল আলম রুমু ও যুবলীগ কর্মী বাপ্পি মল্লিক, এনএ জাকিরের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়।

এতে ওই সম্মেলন পণ্ড হয়ে যায়। এ হামলায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগসহ ১০ নেতাকর্মী আহত হন।

পরে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে ঘটনার তদন্তে জেলা আওয়মামী লীগের নেতৃবৃন্দের নিয়ে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এঘটনায় দলের মধ্যে বিশৃঙ্খল অবস্থা ঠেকাতে জরুরি সভা ডেকে আহসানুল আলম রুমু, এনএ জাকির, মোঃ আরিফ, সাইফুল ইসলাম, যুবলীগ কর্মী বাপ্পি মল্লিক, সোহরাব হোসেন কুট্টি ও সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো: ইব্রাহিমসহ ২১ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর কাজী মজিবর রহমান হামলাকারীদের পক্ষে ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দদের বিরুদ্ধে শহরের বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে দল থেকে এ সিদ্ধান্ত আসে।

এমকে