বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ৯৩ শতাংশ বহুতল ভবনের কোন রকম অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। আইন থাকা সত্ত্বেও ৯৭ শতাংশ ভবন ফায়ার সার্ভিসের বসবাসের উপযোগী ছাড়পত্র নেয়নি।
আর ৪১টি বিপণী বিতান এবং ১২টি বস্তি রয়েছে চরম অগ্নি-ঝুঁকির মধ্যে। ফায়ার সার্ভিসের এক বছরের জরিপে উঠে এসেছে নগরীর এ ভয়ঙ্কর তথ্য।
আর চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বলছে, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
গত এক বছর ধরে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডকে আটটি জোনে ভাগ করে নানামুখি জরিপ চালিয়ে আসছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স।
জরিপের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে ২০ হাজারের বেশি বহুতল ভবন থাকলেও তার অধিকাংশের কোনো অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। বিএমডিসি কোড অনুযায়ী বসবাসের ছাড়পত্র নিয়েছে মাত্র ৩ শতাংশ বহুতল ভবনের মালিক।
নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি আশিক ইমরান বলেন, অনেক বড় ভবন এখন চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন রয়েছে। এবং ব্যবহারও হচ্ছে। যেগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই বললে চলে।
এদিকে বহুতল ভবনের পাশাপাশি নগরীর ৪১টি বিপনী বিতান এবং ১২টি বস্তিকে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করেছে ফায়ার সার্ভিস।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলে, ৩ শতাংশ লোক অগ্নিনির্বাপণের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছে। অন্যদিকে ৯৭ শতাংশ লোক এখনো অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে।
সিডিএ বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্তে জনবল সংকট ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, আমরা একটা তালিকা করি, সেটা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে দেই।
সিটি কর্পোরেশন তারা চুয়েটকে না বুয়েটকে দিবে। না বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে এসে দেখবে এই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ কি-না।
সবশেষ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী চাক্তাই বস্তিতে আগুনে পুড়ে এক শিশুসহ আটজনের মৃত্যু হয়। আর ২০০৪ সালে কালুরঘাট এলাকায় একটি গার্মেন্টেসে আগুনে অন্তত ৬০ জনের মৃত্যু হয়।
এএস





