মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্রান্তের মামলায় আসামি হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর রংপুরে তিন সরকারি চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এরা হলেন-রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থো-সার্জারি বিভাগের সহকারি রেজিস্ট্রার জিল্লুর রহমান রনি, সার্জারি বিভাগের সহকারি রেজিস্ট্রার শরিফুল ইসলাম অন্তু ও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমান পাভেল।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক আনিছুর রহমান মঙ্গলবার বলেন, “রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাদের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি জানানো হয়। সোমবারই তা রংপুরের সিভিল সার্জন ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালককে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।”

মামলায় দোষি প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

গত ২২ সেপ্টেম্বর রংপুর নগরীর ধাপ এলাকায় দুটি কোচিং সেন্টারে অভিযান চালিয়ে সরকারি তিন চিকিৎসকসহ ৭ জনকে আটক করে র‌্যাব।

এদের মধ্যে মোস্তাফিজুর স্থানীয় এ ওয়ান কোচিং সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রনি ও শরিফুল ইসলাম অন্তু পরিচালক।

আটকের পর র‌্যাব তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করে।

এরপর ২০১৪ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাতজনের মধ্যে ছয়জনকে ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় নেওয়া হয়।

আটকের পরপরই শরিফুল ইসলাম অন্তু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। বাকিরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

চলতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর সারা দেশে একযোগে এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ভর্তি পরীক্ষার দুদিন আগে ১৫ সেপ্টেম্বর প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টার অভিযোগে ঢাকায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব, যাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক এবং একজন একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক।

এমআর