‘তিস্তা পানিচুক্তি নিয়ে যে সমস্যা ছিল তা অনেকটা কেটে গেছে’ উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘২১ ফেব্রুয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশে আসছেন। তখন এ বিষয়ে কথা হবে। আমরা আশা করি, শীঘ্রই তিস্তা পানিচুক্তি নিয়ে বিরোধের সমাধান হবে।’

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সফরে আসছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নিমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করে ঢাকা সফরের এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ১৯ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা সফর করবেন বলে জানা গেছে।

‘ছিটমহলের সমস্যা সমাধানে উভয়পক্ষের (বাংলাদেশ-ভারত) আলাপ-আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে এখন আর কোনো মেঘ নেই। নেই কোনো কুয়াশা। দু-দেশের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক বিদ্যমান। আমাদের মধ্যে বিরাজমান অনেক সমস্যা সমাধানেও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।’
তিস্তার পানি বণ্টনেও বাংলাদেশ ন্যায়ভিত্তিক সমাধান পাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

ওবায়দুল কাদের রোববার দুপুরে আশুগঞ্জ-আখাউড়া সড়কের চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য রাস্তাটি পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণে ভারত ও বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে। এক হাজার ৬০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এ সড়কের নির্মাণ কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সড়কটি চার লেনে উন্নীত হলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি হবে। ভারতের সঙ্গে আগেও আমাদের ভাল সম্পর্ক ছিল, এখনও তা আছে। পর্যায়ক্রমে এ সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি পাবে।’

এর আগে তিনি ত্রিপুরা রাজ্যের পোর্ট অডিটরিয়ামে ত্রিপুরা রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী মানিক দে, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণসহ ভারতীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠক শেষে আখাউড়া সিমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘ফেনী নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ব্রিজটি নির্মিত হলে ভারত-বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ত্বরান্বিত হবে।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ত্রিপুরা রাজ্যের বিদ্যুৎ ও পরিবহনমন্ত্রী মানিক দে এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ সাংবাদিকদের বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়ন ও পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে আশুগঞ্জ-আখাউড়া সড়ক চার লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার।

জেআই