‘তোর ছেলেরে মারছি, অখন তোরে মারি ফালাইমু'- এমনি ভাবে খুনিরা হুমকি দিয়েছে রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমানকে। 

রাজনের বাবা বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি আমার ছেলের খুনি কামরুল সৌদি আরব পালিয়ে গেছে। সে সৌদি প্রবাসী ছিলো। ঘটনার পরদিনই সে পালিয়ে যায়।

এখন আপনারাই আমার ছেলের খুনিকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে পারেন। আমি গরীব মানুষ। আমার পক্ষে তো কিছু করা সম্ভব নয়। একমাত্র আল্লাহ চাইলেই আমার ছেলের খুনিদের বিচার হবে বলে দাবী করেন তিনি।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছ, রাজন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সৌদি প্রবাসী কামরুলের দেশ ত্যাগের পরই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

ঘটনার দিন বুধবার দুপুরে রাজনের লাশ গুমের সময় ভাই মুহিত আটকের পরই কামরুল বাড়ি ছাড়ে। সিলেট থেকে সে প্রথমে ঢাকা পৌঁছে। সেখান থেকে ওইদিন রাত বা তার পরদিনই সৌদিতে পালিয়ে যায়।

কামরুল সৌদিতে পৌছেছে, এই খবর দেশে এসেছে সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজার ইউনিয়নের হায়দপুর গ্রামের এক সৌদিপ্রবাসীর মাধ্যমে।

হায়দরপুর গ্রামের আমজদ আলীর ছেলে মকবুল হোসেন জানিয়েছেন, তার ভাই সৌদি থেকে ফোন করে বলেছেন, কামরুলকে ঘটনার পরদিনই তিনি সৌদিতে দেখেছেন।

জানা গেছে, রাজনের লাশ গুম করতে গিয়ে জনতার হাতে মুহিত আটক হওয়ার পরই নিজেদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠে এই ঘটনায় জড়িতরা। তারা যে যেভাবে যেখানে পারে পালিয়ে যায়। পালায় কামরুলও।

একই সাথে পলাতক কামরুলের অপর ছয় ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা। জড়িতদের বাড়িতে মহিলা ছাড়া এখন কেউ নেই বলে জানা গেছে। সবাই আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ও নিরাপদ স্থানে পলাতক।

শেখ সামিউল আলম রাজনকে হত্যায় মুহিত ও কামরুল ছাড়াও আলী হায়দার ওরফে আলী, শামীম ও ইউসুফের নাম অভিযুক্তদের তালিকায় দেখা যায়। এরা সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজার ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মালিকের ছেলে।

এরমধ্যে কামরুলকেই ভিডিও চিত্রে নির্যাতনের লোমহর্ষক ভূমিকায় দেখা গেছে। বাকি ভাইদের অভিযুক্ত করে পোস্টার সেঁটেছেন ‘বাদে আলী জালালাবাদ থানার সর্বস্তরের জনসাধারণ’। তাদের পোস্টারেই মুহিত-কামরুলের অপর ভাইদের নাম এসেছে। সূত্র জানিয়েছে, মুহিতরা সাত ভাই। এই পাঁচজনসহ বাকি দুই ভাইও এখন বাড়ি থেকে পলাতক।

কামরুলের দেশ ত্যাগের ব্যাপারে কথা হয় রাজন নির্যাতন ও হত্যার ঘটনাস্থল সিলেট টুকেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদ আহমদের সাথে।

কামরুলের দেশ ত্যাগের কথা জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, সে দেশ ত্যাগ করেছে কি না এমনটা আমি জানি না। তবে অনেকে বলাবলি করছেন শুনতে পাচ্ছি। পুলিশ এই ব্যাপারে তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে জানিয়ে দ্রুততম সময়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

আসামিরা যে বর্বরতা চালিয়ে তা কোনো ভাষাই প্রকাশ করার মত নয়। তিনি বলেন, যেখানেই পালিয়ে থাকুক বলে মন্তব্য করেন কান্দিগাঁও ইউনিয়নের (রাজনের গ্রামের বাড়ি) চেয়ারমান নিজাম উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রত্যেকটা আসামির গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ ওসি আখতার হোসেন বলেছেন, কামরুল দেশ ছেড়ে পালিয়েছে এমনটি তিনিও শুনতে পেয়েছেন। তবে এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি। সত্যি সে পালিয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে চেষ্টা চলছে এবং আদালতের নির্দেশমত জড়িতদের সকলকে গ্রেপ্তারে দফায় দফায় অভিযান চলছে।

গত বুধবার সকালে সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ে রাজনকে ভ্যান গাড়ি চুরির অপবাদে খুঁটির সাথে বেঁধে লোহার রোল দিয়ে পিটিয়ে ও খুঁচিয়ে রাজনকে হত্যা করা হয়।

এরপর দুপুর পৌনে ১টার দিকে হত্যার পর একটি মাইক্রোবাস যোগে (ঢাকা মেট্টো-চ-৫৪-০৫১৬) রাজনের লাশ গুম করার চেষ্টা করা হয়।

এ সময় শহরতলীর কুমারগাঁও এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় এ খুনের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মুহিত আলমকে আটক করে জালালাবাদ থানা পুলিশ। আটকের পর মুহিত পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় জবানবন্দিতে রাজন হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দেন।

এসএইচ