মগবাজারের তিন খুনে অংশ নেয় দক্ষ কিলার। ব্যবহার হয় কয়েকটি অস্ত্র। অংশ নেয় ১৫/২০ জনের একটি দল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কালা বাবুর অনুগত ১৫/২০ জন সন্ত্রাসী রাত সোয়া ৮টার দিকে মগবাজার সোনালীবাগে অবস্থিত কালাচানের জায়গায় গিয়ে প্রথমে ঘরের জানালার গ্লাস ভাংচুর করে। এ সময় বাসার ভেতর থেকে কালাচানের ভাই হৃদয় তার বন্ধু বিল্লাল ও মুন্না বেরিয়ে আসলে কালা বাবুর ক্যাডাররা তাদের দেখেই এলোপাতাড়ি গুলি করে। গুলির শব্দ শুনে বাড়ির অদূরে থাকা কালাচানের বোন বৃষ্টি এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তাকেও গুলি করে। সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই বিল্লাল ও মুন্না নিহত হয়। পরে হাসপাতালে মারা যায় বৃষ্টি। আর হৃদয় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গুলি করে দু’টি মোটরসাইকেলে করে ৬জন চলে যায়। আর বাকিরা বিভিন্ন অলিগলি দিয়ে যে যার মত করে চলে যায়। ঘটনাস্থলে আসা কালা বাবুর ক্যাডারদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি লোহার রড ও লাঠিও ছিল।
এ খুনের নেপথ্যে রেলের জায়গা দখলের ঘটনা রয়েছে বলে সন্দেহ করছেন অনেকে।
সুত্র জানায়, মগবাজার রেলক্রসিং এলাকার সোনালীবাগে অবস্থিত রেলওয়ের জায়গাটির দখল নিয়ে বিরোধ ছিলো শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের দুই সহযোগী কালা বাবু ওরফে কাইল্যা বাবু ও কালা চানের মধ্যে। এদের সঙ্গে জড়িত ছিলো আরেক সন্ত্রাসী রনি।
কালাচানের কাছ থেকে জায়গাটির দখল নিতে গিয়েই কাইল্যা বাবু গ্রুপের সন্ত্রাসীরা ঘটায় এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। নিহত হয় কালাচানের বোন, ভাইয়ের বন্ধুসহ ৩ জন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গুরুতর আহত ভাই হৃদয় বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
বৃহস্পতিবার রাত সোয়া আটটায় সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডে ১৫/২০ জন সন্ত্রাসী অংশ নিলেও মূল কিলিং মিশনের দায়িত্বে ছিলো ৬ জন। দু’টি মোটরসাইকেলে করে এসে ৮/১০ রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায় তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কালাচান, কালা বাবু ও রনি মগবাজার এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে কালা বাবু ও রনির বিরুদ্ধে রমনা থানায় একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই মামলা রয়েছে। রনি মগবাজারের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাহাবুর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামি।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রাজারবাগ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় মামলা রয়েছে। ওই ঘটনায় পুলিশ তাকে অস্ত্রসহ আটক করেছিল। যুবলীগের দক্ষিণ শাখার এক নেতার আর্শিবাদে সে চলাফেরা করে। কালা বাবু মগবাজারে আনসার সদস্য হত্যার সঙ্গেও জড়িত।
কালাবাবুর প্রতিদ্বন্দ্বী কালাচান এলাকায় যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধেও জায়গা দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এই তিনজনই এক সময়ের দুধর্ষ আরেক সন্ত্রাসী জিসানের সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তবে জিসানের অবর্তমানে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
তিন খুনের পরে রমনা থানা পুলিশসহ, ডিএমপি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। আসেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও আইজিপিও। পুলিশের ক্রাইম সিনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে আলামত সংগ্রহ করেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছেন।
আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করছেন। ইতিমধ্যে দোষীদের গ্রেফতারে কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ঘটনা নিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডল সাংবাদিকদের বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে জেনেছি। আমরা বিষয়টি দেখছি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাবে আমরা সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।
ঘটনার পরপরই জড়িতদের সন্ধানে অভিযানে নামে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও সিআইডির বেশ কয়েকটি টিম। ইতিমধ্যে সিআইডি একজনকে আটকও করেছে।
রমনা থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মশিউর রহমান জানান, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত (রাত ২টা) মামলা হয়নি। তবে মামলা না হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা, ২৯ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ





