রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত ৩০০ জন সন্ত্রাসী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
এসব সন্ত্রাসী জোরপূর্বক ভোটকেন্দ্র দখল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সঞ্চারসহ নানা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
দেশের শীর্ষ এক গোয়েন্দা সংস্থা তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। ওই প্রতিবেদনে দাপিয়ে বেড়ানো সন্ত্রাসীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে নির্বাচনকে ঘিরে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লিখিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়ার সুপারিশ রয়েছে।
নাসিক নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে বিশেষ প্রতিবেদনে এমন পাঁচটি সুপারিশ দেয়া হয়েছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে শেষ সময়ে এসে উদ্যোগী হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিশেষ প্রতিবেদনে সুপারিশে বলা হয়েছে, ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে নির্বাচনের আগেই এলাকার রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন।
নির্বাচনের দিনসহ আগের ও পরের দিন নির্বাচনী এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করার নির্দেশনা দেয়া যায়। এতে বলা হয়, নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত নির্বাচনী আচরণবিধি পালন করার ক্ষেত্রে প্রার্থীরা অনেক ক্ষেত্রে সচেষ্ট হন না।
এক্ষেত্রে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এছাড়া স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের প্রবণতা বেড়ে যায়।
এমন অবস্থায় ঘোষিত নির্বাচনী আচরণবিধি ঠিকভাবে পালন ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো যায়।
বিশেষ প্রতিবেদনে নির্বাচনী ফলাফল সর্ম্পকে বলা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল আওয়ামী লীগের অনুকূলে আনার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা/সিটি/উপজেলাসহ সব স্তরের নেতাকর্মীদের জরুরি ভিত্তিতে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া যায়।
বিশেষ প্রতিবেদনে মন্তব্যে বলা হয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে বিএনপি’র অবস্থানকে জানান দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পরাজিত করে বিএনপি’র প্রার্থী মো. সাখাওয়াত হোসেনের জয়ের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে।
ফলে যে কোনো সময় দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের পক্ষে পেশীশক্তি ব্যবহারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
প্রার্থীরা বিশেষ করে কাউন্সিলররা নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করতে ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে বিপক্ষের জনমতকে নিজ পক্ষে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা, জোরপূর্বক ভোটকেন্দ্র দখল, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি সঞ্চারসহ নানা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা হতে পারে মর্মে আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ঢাকার পাশের জেলা হিসেবে নারায়ণগঞ্জ ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বৃটিশ আমল থেকে এলাকাটি ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য প্রসিদ্ধ। এলাকাটির রাজনৈতিক ইতিহাসও বর্ণাঢ্যময়।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌর নির্বাচনে শ্রমিক নেতা আলী আহমেদ চুনকা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। এর ধারাবাহিকতায় শ্রমিক নেতা আলী আহমেদ চুনকার মেয়ে ২০০৩ সালের ১৬ই জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার নারী চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এটি বিলুপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত বহাল থাকেন।
পরে ২০১১ সালের ৫ই মে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা, কদম রসুল পৌরসভা ও সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভা বিলুপ্ত ঘোষণা করে তিন পৌরসভার সমন্বয়ে ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ড ও নয়টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয়।
একই বছরের ৩০শে অক্টোবর নাসিকের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ছয় জন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় এক লাখ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন।
এরপর ১লা ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নারী মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেন আইভী। পূর্ণ মেয়াদ শেষে এখন নতুন নাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী বৃহস্পতিবার এ নির্বাচনের ভোট হবে। তাই শেষ মুহূর্তের প্রচারণা বেশ জমে উঠেছে।সূত্র মানবজমিন
মাহমুদ





