পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার তুষখালী গ্রামের সাত হিন্দু পরিবারের ছয় একর কৃষি জমি ১ নম্বর তুষখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: শাহজাহান হাওলাদার দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অবৈধভাবে হিন্দুদের জমি দখল করে মৎস্য ঘের এবং পরবর্তীতে ওই জমি খনন করার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার পিরোজপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জাতীয় হিন্দু মহাজোট উপজেলা শাখার নেতা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা।

সংবাদ সম্মেলনে শাখা মহাজোটের সভাপতি অমল চন্দ্র হালদার বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান হিন্দু পরিবারগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন ফন্দি-ফিকির এবং তাদেরকে ভুল বুঝিয়ে ছয় বিঘা জমি দখল করে দুই মাস পর্যন্ত সেখানে স্কেভেটর দিয়ে পুরো জমির মাটি কেটে বাঁধ তৈরী করেন। এসময় তিনি (চেয়ারম্যান) জমিতে স্কেভেটর দিয়ে পুকুর খনন করে উত্তোলিত মাটি নিজের জমিতে ফেলে উঁচু করেন। হিন্দু পরিবারের জমির মালিকরা সে সময় কাজে বাধা দিলে চেয়ারম্যান তাদের গালিগালাজ, হুমকী ও মামলার ভয় দেখান।

ইতিমধ্যে চেয়ারম্যানের দুই ছেলে শামীম হাওলাদার ও শাহাদাৎ হাওলাদার ভূক্তভোগী সুমন বেপারীসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করে মঠবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করেন এবং পুলিশ তাদেরকে আটক করে আদালতে পাঠায়।

ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তার দাপটে স্থানীয় হিন্দু পরিবারগুলো এখন টিকতে পারছে না। ফলে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ভুক্তভোগী দ্বিপালী রানী, হাসি রানী, প্রদীপ কুমার বেপারী, পংকজ বেপারী, মনোজ বেপারী ও দিপক চন্দ্র বেপারী পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিকার ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মঠবাড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ (জিডি) দায়ের করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে শাহজাহান হাওলাদারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি পরপর দুই বার প্রতিপক্ষের তুলনায় বিপুল ভোটের ব্যাবধানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি তারা এটা সহ্য করতে পারছে না। প্রথম থেকেই বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে আসছে তারা। মিথ্যা ও বানোয়াট ঘটনা সাজিয়ে আমাকে সমাজে হেয় করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে।

ওএফ