জাতীয় সংসদ ভবনে কিভাবে এক বছর ধরে ভূয়া মেজর অফিস করেছেন তা জানতে চেয়ে সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য রেখেছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ও সাবেক ফার্স্ট লেডি বেগম রওশন এরশাদ।
আজ (সোমবার) ১০ম সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বেগম রওশন এরশাদ এ প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনে যদি নিরাপত্তা না থাকে তাহলে তা খুবই উদ্বেগের বিষয়।
একদিন, দুদিন নয় কিভাবে এক বছর ধরে একজন ভূয়া মেজর সংসদ ভবনে প্রবেশ করেছে তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে রওশন এরশাদ সংসদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি এ বিষয়ে যথাযথ নির্দেশনা দিতে জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে অনুরোধ জানান তার বক্তৃতায়।
উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদ ভবন থেকে সম্প্রতি তিন ভুয়া মেজরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মাহমুদুল হাসান (৪২), ইউসুফ আলী (৩২) ও হাসান মাহমুদরিপন (৪২)।
ডিএমপির তেজগাঁও জোনের ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার জানান, মেজর পরিচয় দিয়ে ওই তিনজন সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন। এ সময় সংসদে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করে থানায় হস্তান্তর করেন।
তারা কেন কোন উদ্দেশ্যে ভুয়া পরিচয় দিয়ে সংসদে প্রবেশ করেছেন, তা জানতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে শের-ই-বাংলা থানায় মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মাহমুদুল হাসান সংসদ সদস্য নন। কিন্তু গত এক বছর ধরে তিনি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে অফিস করেছেন। তিনি একা নন, সঙ্গে ছিলেন ব্যক্তিগত সহকারী ইউসুফ আলী। কেউ তার পরিচয় জানতে চাইলে নিজেকে মেজর বলেই পরিচয় দিতেন তিনি।
জাতীয় সংসদ সূত্র জানায়, নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. কবিরুল হকের সংসদ ভবনের অফিস থেকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাহমুদুল হাসান ও তার দুই সহযোগীকে আটক করা হয়।
এ সময় মাহমুদুল হাসান প্রথমে নিজেকে সেনাবাহিনীর মেজরপদের কর্মকর্তা দাবি করেন। পরে তার কাছ থেকে মেজর মাহমুদুল হাসান পরিচয়ে একটি ভিজিটিং কার্ড ও এ. হাসান নামের একটি ভিজিটিং কার্ড পাওয়া যায়, যেখানে তার পদবী উল্লেখ রয়েছে অতিরিক্ত সচিব।
সংসদ সূত্র জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংসদ ভবন এলাকায় আসা-যাওয়া করতেন। সংসদ পুলিশ তার গতিবিধি বেশ কিছুদিন ধরে অনুসরণ করছিল। অবশেষে গত মঙ্গলবার তাকে নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য কবিরুল হকের অফিস থেকে আটক করা হয়।
জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় জাতীয় পতাকাবাহী গাড়িতে চলাফেরা করতেন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয়দানকারী ও ভুয়া মেজর মাহমুদুল হাসান ওরফে এ হাসান। দীর্ঘদিন ধরে এ প্রতারক সংসদ ভবনে অফিস করছিলেন।
এ বিষয়ে নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য কবিরুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। সংসদে আমার নামে একটি অফিস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত আমি সেটা বুঝে নেইনি। আমার অফিসটা কোথায়তাও আমি জানি না। আমার প্রশ্ন, সংসদে এত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে এমন ভুয়া লোকজন প্রবেশ করে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।’
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি





