ভারতে ফারাক্কা বাঁধের সব গেট খুলে দেয়ায় কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার দুই ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে যাচ্ছে ঘর-বাড়ি।
তলিয়ে গেছে প্রায় ১৮শ’ হেক্টর জমির ফসল। সেই সাথে পানিবন্দি থাকায় মানুষের মধ্যে বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দিয়েছে। তবে দুর্গত এলাকায় এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়নি বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফারাক্কা বাঁধের দরজা খুলে দেয়ায় পদ্মা নদীতে উজানের নেমে আসা পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের ৩৭টি গ্রামের মধ্যে ৩০টি গ্রামই বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন দুই
ইউনিয়নের অর্ধলাখ মানুষ।
বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ার পাশাপাশি তলিয়ে গেছে ১৮শ’ হেক্টর জমির উঠতি আউশ ধান ও পাটসহ অন্যান্য
ফসল।
জলমগ্ন হয়েছে চিলমারী, চরচিলমারী, রামকৃষ্ণপুর, ঠোটারপাড়া,
সোনাতলা, চর সোনাতলাসহ চারটি বিজিবি ক্যাম্প ও অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্যাকবলিত ভুক্তভোগীরা জানান, এ দুই ইউনিয়নের বেশিরভাগ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
আয়-রোজগার না থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের দিন কাটছে অর্ধাহারে-অনাহারে। তাদের মধ্যে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
অনেক এলাকায় পানিবাহিত রোগ-বালাই ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি নিয়েও মহাবিপাকে পড়েছে ওইসব দুর্গত এলাকার মানুষ।
এদিকে বন্যা দুর্গত এলাকায় সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত
কোনো ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। ঠোটারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জামরুল ইসলাম জানান, বন্যার কারণে কাজ না থাকায় খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে।
স্থানীয় চর বাহিরমাদি গ্রামের কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, আমাদের সব ঘরে পানিতে তলিয়ে গেছে। ঘরে রাখা ধান-পাট সব নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের কেউ খোঁজ-খবর নিচ্ছে না।
এভাবে নদীর পানি বাড়তে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে আমাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে চলে যেতে হবে।
বাজুমারা গ্রামের বাসিন্দা বলেন, নলকূপ ডুবে যাওয়ায়
পান করার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। নৌকায় করে গ্রামবাসীকে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় রামকৃঞ্চপুর ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন জানান, রামকৃঞ্চপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ১২ গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। এখানকার প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
এলাকায় তীব্র খাবার পানি সংকট দেখা দিয়েছে। ইতমধ্যে বন্যাকবলিতদের তালিকা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই তাদের মাঝে তা সরবরাহ করা হবে।
স্থানীয় চিলমারী ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ জানান, গত কয়েক দিন ধরে অব্যাহতভাবে পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় চিলমারীর ১৮ গ্রামের ৪০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে এসব মানুষ।
এসএম/সবুজ





