শহীদ মিনারের পবিত্রতা ও ভাবগাম্ভীর্য রক্ষার্থে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ২৫ আগস্ট আট দফা নির্দেশনা প্রদান করেন আদালত।
যাতে শহীদ মিনারের মূল বেদীতে কোনো সভা-সমাবেশ, পদচারণ, আমরণ অনশন, ভবঘুরে লোকদের আনাগোনা ও অন্যান্য অসামাজিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করা হয় এবং সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা করতে পূর্ত মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু শহীদ মিনারের দিকে তাকালে নিরাপত্তার কোনো চিহ্নই চোখে পড়ে না।
শহীদ মিনারের দুই প্রান্তে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেয়া দুটি সাইনবোর্ড, যাতে হাইকোর্টের নির্দেশটুকু সংক্ষিপ্তভাবে বলা আছে। কিন্তু কোথাও নেই কোনো যত্নের ছাপ। মিটিং-মিছিল, পদচারণ, আমরণ ধর্মঘট, ভবঘুরে যুগলদের বসে থাকা কোনো কিছুরই কমতি নেই শহীদ মিনারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইনবোর্ডগুলোও রক্ষা পায়নি কোচিং সেন্টারের পোস্টার থেকে।
এই শহীদ মিনার ভাষা শহীদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধার প্রতীক, গৌরবোজ্জ্বল আন্দোলনের প্রতীক। ভাষা যেকোনো সংস্কৃতির একটি মৌলিক উপাদান। আর এই ভাষার জন্য রক্তও যে দেয়া যায় তার প্রথম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল বাঙালি। রক্তঝরা সেই একুশের শহীদস্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি হয়েছিল শহীদ মিনার।
কিন্তু বছরের দুই-তিনটি দিন বাদে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সারা বছর থাকে অরক্ষিত অবস্থায়। তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটে শুক্রবার সন্ধ্যায় গণজাগরণ মঞ্চ আয়োজিত নীলাদ্রি চট্টোপ্যাধ্যায় (নীল) হত্যার প্রতিবাদ র্শীষক নাগরিক শোক সমাবেশে।
প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যদের মত উপস্থিত ছিলেন, ড. হাসান ইমাম, অজয় রায় চৌধুরী, রনক কবীর, সৈয়দ আবুল মকসুদের মত সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা।
প্রতিবাদ সমাবেশে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও গণসংগীত পরিবেশনের সময় দেখা যায়, গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা জুতা পায়ে একসাথে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনে জন্য মূল বেদীতে উঠে অংশ গ্রহণ করছেন।
মঞ্চের একজন কর্মীকে জুতা পায়ে শহীদ মিনারের মূল বেদীতে ওঠার কারণ জানতে চাইলে, তিনি এই প্রতিবেদকের দিকে আড় চোখে তাকিয়ে কোন কথা না বলে স্থান ত্যাগ করেন।
কর্তব্যরত একজন পুলিশের কাছে বিষয়টি অবহিত করা হলে এবং কেন তারা জুতা পায়ে মূল বেদীতে উঠতে নিষেধ করছেন না জানতে চাইলে টাইম নিউজকে তিনি বলেন, বিষয়টি আমাদের দৃষ্টি গোচর হয়নি, হলে নিষেধ করতাম।
বান্ধবী নিয়ে ঘুরতে আসা ফরিদুলের কাছে জুতা পায়ে শহীদ মিনারের মূল বেদীতে ওঠা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি টাইম নিউজকে জানালেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে শহীদ মিনারে আসছি, কিন্তু কোন দিন মূল বেদীতে জুতা পায়ে দূরে থাক, ওখানে বসে আড্ডা দেয়ার মতও সাহস পাইনি।
ফরিদুল আরো বললেন,ভাই আরো কিছুক্ষণ থাকেন, দেখবেন অসংখ্য লোক মূল বেদীতে উঠে আড্ডা দিচ্ছে। জুতা খুলে উঠার কোন তোয়াক্কাই তারা করছে না।
একটু পরেই অবশ্য তার কথার সত্যতা মিললো। দেখা গেলো যারা বন্ধু নিয়ে ঘুরতে আসছেন, সরাসরি মূল বেদীতে গিয়ে বসছেন। এখানে যে বিধি নিষেধ আছে, সে কথা তারা হয়ত জানেই না।
ঢাকা মেডিকেলের ছাত্র শরিফুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, যে সমস্ত লোক আমাদের প্রাণের শহীদ মিনারকে তামাশার পাত্র বানাচ্ছে কোন বিধি-নিষেধ মানছে না, তাদের কঠোর শাস্তি দিলে বাকিরা ঠিক হয়ে যাবে।
এমএ/ এআর





