চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন খাল খননের প্রকল্প প্রস্তাব কর্মসূচির (ডিপিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনীতি পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
মঙ্গলবার ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।
সিটি করপোরেশনের মেয়র মনজুর আলম একনেক বৈঠকে প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা অনেকাংশ কমে যাবে।
মেয়র মনজুর আলম বলেন, চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি পূরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আশা করি, ভবিষ্যতে তিনি ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনার অন্য প্রকল্পগুলোও অনুমোদন দেবেন।
গত শুক্র থেকে রোববার পর্যন্ত টানা ৩ দিনের বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম শহরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে চট্টগ্রাম শহর প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এ জন্য সিটি করপোরেশন ও মেয়রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নগরবাসী ও নগর পরিকল্পনাবিদেরা।
তবে মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার নতুন খাল খননের প্রকল্প অনুমোদন না দেওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত রোববার করপোরেশনের ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা অধিবেশনে এই প্রকল্প অনুমোদনের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান মেয়র।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, নতুন খাল খননে মোট ব্যয় হবে ২৮৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। নগরের বাড়ইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত এ খাল খনন করা হবে। ২ দশমিক ৯৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ খালের প্রস্থ হবে ৬৫ ফুট। খালের উভয় পাড়ে প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া খালের দুই পাশে ২০ ফুট প্রস্থের রাস্তা থাকবে।
জানা গেছে, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য সিটি করপোরেশন এই নতুন খাল খননের প্রকল্প প্রস্তাব কর্মসূচি (ডিপিপি) ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। প্রথমে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৯৫ কোটি ১০ লাখ টাকা।
ডিপিপি অনুযায়ী, নতুন খাল খননের জন্য ২৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০১ কোটি টাকা। বাকি টাকা খাল খনন, রাস্তা ও প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণে খরচ করা হবে।
করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, নতুন এই খাল খনন করা হলে নগরের নাসিরাবাদ, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, বাকলিয়া, শুলকবহর, বাড়ইপাড়া এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হবে।
ঢাকা, ২৪ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ





