বড় ভাই মাদারীপুরের পাঁচখোলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম আকতার হাওলাদার এলাকায় ত্রাস হিসাবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে, গণধর্ষণ, মাদক, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও দখলবাণিজ্যসহ বহু অভিযোগ আছে। সরকারি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত ও চাঁদাবাজি মামলয় পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়েছেন তিনি। এখনো এলাকায় তার ত্রাসের রাজত্ব চলছে। তারই আপন ছোট ভাই বখতিয়ার হাওলাদার (৩৫) এলাকায় গড়ে তোলছে মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেট।

ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার একটি মোটরসাইকেল চুরি মামলায় গত ৩ জুলাই বখতিয়ার ও তার সহযোগী রানা মিয়াকে (৩২) আটক করে মাদারীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোহম্মদপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে সদর থানা পুলিশ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আকতার হাওলাদার ও বখতিয়ারসহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর দাপটে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। দোর্দন্ড প্রতাপের কারণে মানুষ তাদের অন্যয় অপকর্মের প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে একটি ঢাকা মেট্র ল ২৭-৭৪৯২ এফজেড মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে বলে একটি জিডি করেছিলেন মালিক কতৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার মাদারীপুরে গাড়ি চালানোর সময় সিগনাল অমান্য করায় মামলা দেয় মাদারীপুর ট্রাফিক পুলিশ। অনলাইনে মামলা হলে গাড়ির নম্বরটি নজরে আসে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের। তাই মাদারীপুর সদর থানায় মামলার ওয়ারেন্ট পাঠায় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে চোরাই মোটরসাইকেলসহ পাঁচখোলা ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক ও একই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা আকতার হাওলাদারের ছোট ভাই বখতিয়ার হাওলাদার ও তার সহযোগী রানা মিয়াকে আটক করে পুলিশ।

মোহাম্মদপুর থানা মামলা নং ১২ তারিখ ০৩/০৭/২০২০ ইং। আটক কৃত বখতিয়ার সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম আকতার হাওলাদারের আপন ছোট ভাই ও রানা মিয়া শরিয়তপুর জেলার জাজিরা থানার গোপালপুর গ্রামের রাজা মিয়ার ছেলে।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম মিয়া বলেন, কিছুদিন আগে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে একটি ঢাকা মেট্র ল ২৭-৭৪৯২ এফজেড মোটরসাইকেল চুরির হয়। সেই চোরাই মোটরসাইকেল সহ বখতিয়ার ও রানা নামের দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আসামিদের মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এরআগে ২০১৭ সালের জানুয়ারীতে মাদারীপুরে সরকারি কাজে বাধা, সরকারি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত ও চাঁদা দাবির অভিযোগ পাঁচখোলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম আকতার হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ১৭ জানুয়ারি দুপুরে শহরের বিসিক শিল্প নগরী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মাদারীপুর সদর মডেল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল মোর্শেদ জানান, সকালে সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের তাল্লুক এলাকার একটি ব্রিজের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করতে যান এলজিইডি’র সদর উপজেলার কার্য সহকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।

এ সময় চেয়ারম্যান নজরুল তার লোকজন নিয়ে কাজে বাধা দেন ও ঠিকাদারের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এছাড়াও এসময় নজরুল ও তার লোকজন এলজিইডি’র কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে এ ঘটনায় নজরুলের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে । এছাড়াও নজরুলের বিরুদ্ধে ২টি মাদক, ২টি চাঁদাবাজী, ১টি ধর্ষণ ও একটি গণধর্ষণের মামলা রয়েছে বলেও ওসি জানান।