‘ডাইক্লোফেনাক’ জাতীয় ওষুধের ব্যবহারের ফলে প্রকৃতিকে সুস্থ রাখার গুরুদায়িত্ব পালনকারী পাখি শকুন এখন অস্তিত্ব সংকটে। দেশে এখন মাত্র ২০০টি শকুন টিকে আছে।
এর মধ্যে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বনাঞ্চল হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গায় ১০০টিরও বেশি শকুনের বিচরণ রয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচারের (আইইউসিএন) কো-অর্ডিনেটর সারোয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলা শকুন রক্ষায় ২০১৪ সাল থেকে তারা কাজ করছেন। এজাতীয় শকুন পুরো পৃথিবীতেই একেবারে কমে গেছে। ৯৯ শতাংশেরও অধিক শকুন পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে। ফলে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যা শুধু শকুন রক্ষায় কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার দেশে দুটি অঞ্চলকে শকুনের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল ঘোষণা করেছে। একটি হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা বনাঞ্চল এবং অপরটি খুলনার সুন্দরবন। একই সঙ্গে সরকার এ দুটি অঞ্চলের গরুতে কিটোপ্রোফেনজাতীয় ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সারোয়ার আলম বলেন, এ ওষুধগুলো যদি পশুতে ব্যবহার না হয় এবং পশু স্বাভাবিকভাবে মারা যায়, সেগুলো খেলে শকুন আর মরবে না। শকুন বাঁচলে অ্যান্থ্রাক্স থেকেও আমরা মুক্তি পাব।
ঢাকা বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ ইনাম আল হক গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশে বিলুপ্ত প্রায় এ পাখিটির শেষ যে জায়গাটি রয়েছে তা হবিগঞ্জে। রেমা বনাঞ্চলেই তারা প্রজনন করে। এর সমতুল্য নিরাপদ জায়গা বাংলাদেশে আর কোথাও নেই। তিনি আরও বলেন, দেশে এক সময় লাখ শকুন ছিল। কিন্তু আজ সেগুলো মরে গেছে। ডাইক্লোফেনাক নামক পশু চিকিৎসায় ব্যবহৃত এক বিষাক্ত ওষুধের বিষক্রিয়ায় শকুনগুলো শেষ হয়ে গেছে। দেশে এখন মাত্র ২০০টি শকুন টিকে আছে। শেষ শকুনগুলো আমরা বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছি।
রেমা বনাঞ্চলের বিট কর্মকর্তা ও শকুন সংরক্ষণ দলের প্রধান মোহাম্মদ আলী গণমাধ্যমকে বলেন, শকুনকে প্রকৃতির ঝাড়ুদার বলা হয়। শকুনের যে হজম করার ক্ষমতা রয়েছে তা অন্য কোনো প্রাণীর নেই। মানুষের জন্য ক্ষতিকর যে জীবাণুগুলো রয়েছে তা খাওয়ার পর অতি সহজেই শকুন হজম করতে পারে। তিনি আরও বলেন, তাদের প্রজনন মৌসুম সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়। তাতে যেন তাদের কোনো ব্যাঘাত না হয় সে জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হয়। এখানে ১০০টিরও বেশি শকুন আছে।
এমবি





