অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়াকে শিল্প ও বন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ভৈরব নদ।

এটি সকল সচেতন মহল স্বীকার করবেন। কিন্তু এই ভৈরব দন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের ধ্বংসের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে।

এর জন্য অবশ্য ভৈরব নদকে দায়ী করা যায় না। এর জন্য দায়ী নদী দখলদার এবং পুজিপতি শ্রেণির মানুষেরা। নদীর একূল ভাঙ্গে আর অন্য কূল গড়ে।

সেই ভাঙনের মধ্যে পড়েছে ভৈরব উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অংশ। নওয়াপাড়াসহ ফুলতলার উত্তরডিহি-পায়গ্রাম কসবা অঞ্চলের পুজিপতিরা বিভিন্ন মিল তৈরির কারণে নদীর মধ্যে প্রায় ২০-৩০ ফুট জায়গা দখল করে বাঁধ নির্মান করেছে।

এই বাঁধে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে নদীর ¯্রােত উত্তর পাশে চাপ সৃষ্টি করছে। যার ফলে শতশত বিঘা জমি, ঘরবাড়ি এমনকি চলাচলের রাস্তা, হিন্দুদের বেশ কয়েকটি শ্মশান মন্দির বিলীন হয়ে গেছে।

সম্প্রতি দৈনিক নওয়াপাড়ার ক্যামেরায় ধরা পড়ে ভাটপাড়া বাজারের পূর্বপার্শ্বে পাইকপাড়ার মাঝিপাড়া, নিকারীপাড়া ও ভূগিলহাটের কিছু অংশের চিত্র। পাইকপাড়ার মৃত বেলাল শেখের ছেলে হাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের প্রায় দুইবিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পাইকপাড়ার মাঝিপাড়া, পাইকপাড়া শ্মশান ঐতিহ্যবাহী বীরেশ্বর ফকিরের ঘাট, পাইকপাড়ার মৃত বেলাল শেখ, মৃত বিমল বিশ্বাস, মৃত কাশেম সরদার, ভূগিলহাটের কপিল উদ্দিন, রবিউল শেখ, হোসেন মোল্যা, সাবেক চেয়ারম্যান হাজী আব্দুর রাজ্জাক, হারান বিশ্বাস, মৃত হোসেন আলী, তোফাজ, আতিয়ার শেখ, আনছার মাস্টারসহ অসংখ্য মানুষের শত শত বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

খুব শ্রীঘ্রই যদি ভৈরবের উত্তরপূর্ব পার্শে¦ প্রতিরক্ষা মূলক বাঁধ দেওয়া না হয় তাহলে উত্তর পূর্বাঞ্চলের শত শত পরিবার ভূমিহীন হয়ে পড়বে।

তাই পানি উন্নয়ন বোর্ড, পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়, স্থানীয় মাননীয় সাংসদসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থরাসহ এলাকাবাসী।

এসএইচ