নীলফামারী জেলার ডিমলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের অর্ধেকও পাননি সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা। ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র মানুষরা আর্থিক সংকটে দিনানিপাত করলেও কেউ তাদের দেখার নেই-এমন অভিযোগ করলেন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুল লতিফ খান।
খালিশা চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক হুদা জানান, বন্যার পানিতে ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। ব্যক্তিগত চেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ খবর নেয়া শুরু করলেও সংকট মোকাবেলায় পর্যাপ্ত কিছুই করা যায়নি। পরে সরকারিভাবে কিছু দেয়া হলেও সংকট মোকাবেলায় তা খুবই কম।
একই অভিযোগ তিস্তা নদী তীরবর্তি ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার দশটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের। এলাকাগুলোতে বন্যার পর নদী ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় স্থানীয়রা পড়েছেন আতঙ্কে।
জলঢাকা উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ জানান, তার ইউনিয়নে ১৩০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মাত্র একবার চাল দেয়ার পর আর কোনো সহযোগীতা দেয়া হয়নি। এছাড়া ৩০টি পরিবারের বসতভিটা ও জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে তাদের পুর্নবাসনে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, বন্যায় দুই উপজেলার ৫শ হেক্টর জমির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। টাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমান দাঁড়ায় ৮ কোটি ৩৫ লাখ। রোপা আমন ক্ষেত ছাড়াও অন্য ফসলাদী পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
জেলা ত্রাণ ও পুর্ণবাসন কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালেব মোল্লা জানান, ৪০৬২টি পরিবারকে সরকারিভাবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এরমধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শনিবার পর্যন্ত নগদ ৭০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের পুর্ণবাসনের জন্য তালিকা আসলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, বন্যায় ক্ষতিস্তদের বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। সরকারিভাবে তাদের সহযোগীতার বিষয়টি চলমান রয়েছে।
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





