২০১৫ সালে সারাদেশে ছোট বড় মিলিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬ হাজার ৫৮১টি। আর এতে ৮ হাজার ৬৪২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ২১ হাজার ৮৫৫ জন আহত হয়েছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবদেন-২০১৫’ এ এসব তথ্য জানান সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘আহতদের মধ্যে হাত পা হারিয়েছে বা অন্য কোনো অঙ্গ হারিয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন ১ হাজার ৩০৫ জন। এসব দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দারিদ্র্যের কাতারে নেমে এসেছে পরিবারগুলো।
সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বছরে আর্থিক ক্ষতির পরিমান প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। ইরাক বা আফগানিস্তানে ভয়াবহ যুদ্ধে যে প্রাণহানি হয়েছে বাংলাদেশে সড়ক দূর্ঘটনার পরিস্থিতি তার থেকে কোন অংশে কম নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘২০১৫ সালে ১ হাজার ১৮৫টি বাস, ১ হাজার ৫৬টি ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান, ৮৭২টি হিউম্যান হলার, ৮৫২টি প্রাইভেট কার- মাইক্রোবাস, ১ হাজার ৬৭৮টি অটোরিকশা, ১ হাজার ৭৭১টি মোটরসাইকেল, ১ হাজার ৭১ টি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও ১ হাজার ৩৩টি নসিমন-করিমন দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।
১ হাজার ৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী, ৩০৫ জন শিক্ষক, ১৩৩ জন সাংবাদিক, ১০৯ জন ডাক্তার, ১২৪ জন আইনজীবী, ১০৬ জন প্রকৌশলী, ৫৩৫ জন পরিবহন শ্রমিক ও ৫১৯ জন চালক, ২৮০ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ৮০১ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ২ হাজার ২৪১ জন পথচারী, ২৬১ জন সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী, ১ হাজার ৬৭৭ জন নারী, ১ হাজার ১২২ জন পুরুষ এসব দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এই নিরব হত্যাকাণ্ড প্রতিদিন ঘটলেও তা সরকার, সুশীল সমাজ, টিভি চ্যানেল, সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকদের কাছে অনেকটা গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে। সবার কাছে এটি যেন গা সওয়া হয়ে গেছে।
গুরুত্বপূর্ণ কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হলে সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ গুরুত্ব পায় না। দুর্ঘটনার বিষয়ে মামলা হলেও পুলিশের কাছ থেকে কোন আইনগত সহায়তা পায় না ক্ষতিগ্রস্তরা।’ সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের মহাসচিব খাইরুজ্জামান কামাল, নিরাপদ সড়ক চাই এর যুগ্ম মহাসচিব গণি মিয়া বাবুল, যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সমন্বয়ক মহিউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম-বোয়াফ এর সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময়, কাজী আরেফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাজী মাসুদ আহমেদ।
এসএইচ





