ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র প্রভাবে শনিবার সকাল থেকে বাতাস ও ভারি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে । এতে জোয়ারের পানি ফুঁসে উঠে এবং বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে জেলার দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া, কোম্পানীগঞ্জ ও সুবর্ণচরের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে সর্বনিন্ম ৪ থেকে সর্বোচ্চ ৭ ফুট জলোচ্ছ্বাস দেখা দিলে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে।
জোয়ারের পানিররাতে হাতিয়ায় মা-মেয়েসহ তিনজন নিহত হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কাঁচা ঘর, ভাসিয়ে নিয়ে গেছে গবাদী পশু ও হাস-মুরগি। নিহতরা হচ্ছে, হাতিয়া উপজেলার বয়ারচরের চানন্দী ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামের আবুল কাশেমের স্ত্রী মিনারা বেগম (৩৫) ও তার মেয়ে মরিয়মের নেছা (১০) এবং জাহাজমারা ইউনিয়নের ছালা উদ্দিনের স্ত্রী রিপুলা বেগম (৪৭)। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন পুরো, সোনাদিয়ার ৭-৮টি গ্রাম, চর ঈশ্বরের ৫-৬টি গ্রাম, সোনাদিয়া ইউনিয়নের একটি বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ৫-৬টি গ্রাম, নলচিরার ৭-৮টি গ্রাম, সুখচর ইউনিয়নের ৬-৭টি গ্রাম, তমুরদ্দির ৫-৬টি গ্রাম ও বয়ারচরের চানন্দী ইউনিয়নের ৩-৪টি গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। একই অবস্থা কোম্পানীগঞ্জের চর এলাহী ইউনিয়নের ১০-১২টি গ্রাম ও মুছাপুর ইউনিয়নে ৫-৬টি গ্রাম এবং সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চর মাকসুমুল, চর আলাউদ্দিন, চর আকরাম উদ্দিনের সম্পূর্ণ, চর তোরাবআলী (আংশিক) ও চরক্লার্ক ইউনিয়নের চর বায়োজিদ সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় সর্বনিন্ম ৪ থেকে সর্বোচ্চ ৭ফুট
উচ্চতায় জলোচ্ছাস দেখা দেওয়ায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। জোয়ারের পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে কাঁচা ঘর, গবাদী পশু ও হাস-মুরগি। এদিকে দুপুর ২টার দিকে জোয়ারের পানিরস্রোতে হাতিয়ার বয়ারচরের চানন্দী ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামে মিনারা বেগম ও তার মেয়ে মরিয়মের নেছা ভেসে যায়।বিকেল ৫টার দিকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রায় একই সময় জাহাজমারা ইউনিয়নে রিপুলা বেগম নামে এক গৃহবধুও জোয়ারের পানিতে ভেসে যায়। পরে বিকেলের দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার ঘটনা ও জোয়ারের পানিতে ডুবে একই পরিবারের দুইজনসহ তিন নারীর মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসান মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন। এছাড়া কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইউএনও ইসলাম হোসেন ও সুবর্ণচর উপজেলা ইউএনও হারুনুর রশিদও স্ব স্ব উপজেলায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তারা বলেন, শুক্রবার থেকে মাইকিং করে নিরাপদে সরে আসার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষগুলোকে নির্দেশ দিয়ে আসছিলেন তারা।
অনেকে ইতোমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। তারা আরো জানান, উপকূলীয় এলাকাগুলোতে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ সরকারি ও এনজিওগুলোর স্বেচ্ছাসেবকরা অবস্থান করছে। তারা মাইকিং করে ও সাইরেন বাজিয়ে লোকজনকে নিরাপদে সরে আসার জন্য সহযোগিতা করছেন। এ ছাড়া প্রত্যেকটি আশ্রয় কেন্দ্রে পর্যান্ত শুকনো খাওয়ার সরবরাহ করা হয়েছে। এ দিকে শনিবার ভোর থেকে ভারি বৃষ্টি ও বাতাস শুরু হওয়ার কারণে জনজীবনে অনেকটা নাকাল নেমে আসে।
তার উপর ভোর থেকে জেলা শহরসহ প্রায় সব স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় আবস্থা আরও বেগতিক হয়ে পড়ে। বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে যানচলাচলে সমস্যা ও বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল, টেলিভিশন ও কম্পিউটার ব্যবহার বন্ধ হয়ে পড়ায় অনেকটা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ। নোয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মো. সহীদ উল্যাহ জানিয়েছেন গত ১২ ঘন্টায় জেলায় ১০৩ মি: মি: বৃষ্টির পানি রেকর্ড করা হয়েছে।
এআই





