‘বিএনপি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন’ কানাডার আদালতের এমন রায়ের ভিত্তি জানতে চাই বিএনপি। ঢাকায় দেশটির হাইকমিশনের সঙ্গে দেখা করে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে জানতে দলটির একটি প্রতিনিধি দল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দূতাবাসে যান। কানাডার রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন। বৈঠকের ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে কিছুই জানানো হয়নি।
বিএনপির জানায়, রায়ের ব্যাপারে ঢাকার হাইকমিশন অবহিত কিনা কিংবা বিএনপি সম্পর্কে ঢাকা থেকে কোনো তথ্য দেয়া হয়েছিল কিনা তা দলের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ রায়ের ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো পক্ষ ভুল তথ্য দিয়ে ইমিগ্রেশন ও আদালতকে প্রভাবিত করেছিল কিনা তা জানতে হাইকমিশনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে একটি লিখিত বক্তব্য হাইকমিশনের মাধ্যমে কানাডা সরকারের কাছে দেয়া হয়। এতে বলা হয়- বিএনপি কখনও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বিশ্বাস করে না এবং প্রশ্রয়ও দেয় না- তা কানাডা সরকারকে জানানো হয়েছে। উদার গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিশ্বের কাছে বিএনপির ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে। কানাডা সরকারও এই বিষয়ে অবহিত বলে আমরা বিশ্বাস করি। কানাডা সরকার ও জনগণের সঙ্গে বিএনপির যে সম্পর্ক রয়েছে তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টিতে তৃতীয় কোনো পক্ষ ভুল তথ্য দিয়ে কানাডা সরকারকে বিভ্রান্ত করছে কিনা সে ব্যাপারে দেশটির সহযোগিতা চায় বিএনপি।
সম্প্রতি কানাডার একটি আদালত বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে রায় দেয়। বিএনপির সদস্য হওয়ার কারণে একজন বাংলাদেশী নাগরিকের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নাকচ করে দেয়ার বিরুদ্ধে করা জুডিশিয়াল রিভিউর আবেদন নিষ্পত্তি করতে গিয়ে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রেখে বিচারক এ মন্তব্য করেন।
‘বাংলাদেশের সব সন্ত্রাসীই বড় দুটি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তারা হয় আওয়ামী লীগ না হয় বিএনপি’ আবেদনকারীর এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেন, বিএনপি সন্ত্রাসী সংগঠন কিনা এ প্রশ্নে অফিসার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী সংগঠন কিনা সেই প্রশ্ন বিবেচনার বিষয়টি আদালতের সামনে নেই বলে জানায়।
নাজিব





