সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোলার অভ্যন্তরীণ ও দুরপাল্লার অন্তত ২২টি রুটে মেঘনায় চলছে ছোট ছোট লঞ্চ ও ট্রলার।

বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি নিয়ে এসব ছোট নৌযান চলাচলের কারণে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ছে। অন্যদিকে যাত্রীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

অবৈধভাবে চলাচলকারী এসব লঞ্চের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় প্রশাসনের কোনো নিয়ম-নীতি মানছেন লঞ্চ মালিকরা। ভোলার সঙ্গে অন্য জেলা ও দুর্গম এলাকার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে এসব নৌপথ। তাই বিকল্প যান না থাকায় যাত্রীরা অনেকটা বাধ্য হয়েই এসব নৌযানে যাতায়াত করছেন।

সরকারি সি ট্রাক সার্ভিস ছাড়া বিপদজনক এসব রুটে লঞ্চ চলাচল করায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা আর প্রাণহানির আশংকা করলেও হাত গুঁটিয়ে বসে রয়েছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। ‍

চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাটে দেখা যায়, একটি ছোট লঞ্চ ঘাটে নোঙর করা। বেতুয়া থেকে মনপুরার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে সেটি। লঞ্চটির একদিকে মালামাল উঠানো হচ্ছে, অন্যদিকে যাত্রীরা উঠছেন। অতিরিক্ত মালামাল আর যাত্রীতে ধারণ ক্ষমতার ৫/৬ গুণ হয়েছে। ততক্ষণে নদীও উত্তাল হয়ে উঠছিল। কিছুক্ষণ পর এ উত্তাল মেঘনার বিপদজনক জোনের মধ্যেই লঞ্চটি ছেড়ে যায়।

শুধু চরফ্যাশনেই নেই। একই চিত্র প্রতিদিন দেখতে পাওয়া যায় ভোলায় মেঘনার ২২টি রুটে। সরকারের পক্ষ থেকে ঘাটগুলোতে ইজারা বসিয়ে রাজস্ব আয় করা হলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী এসব লঞ্চ ও মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হচ্ছেনা। প্রতিনিয়ত যাত্রীরা এসব অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।

প্রতিদিন ভোলা সদরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এসব লঞ্চ জেলার অভ্যন্তরীণ রুট ছাড়াও নেয়াখালী, লক্ষীপুর ও পটুয়াখালীর উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। ফলে চরম ঝুঁকি নিয়েই যাত্রীরা পারাপার হচ্ছেন।

মেঘনার বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখনকার বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিনই মেঘনা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে উত্তাল হয়ে ওঠে। কিন্তু তারপরেও এ উত্তাল নদী উপেক্ষা করে চরম ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই চলছে ছোট ছোট লঞ্চ ও ট্রলার। ঝুঁকি নিয়ে এই পারাপারে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও কোনো তোয়াক্কা করছে না কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, সরকার নৌ দুর্ঘটনা রোধে প্রতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৮ মাস সময়কে মেঘনার ডেঞ্জার টাইমজোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ সময় নদী ও সাগর উত্তাল থাকায় সি সার্ভে ছাড়া অন্য নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে।

লঞ্চযাত্রীরা জানান, লঞ্চগুলো অতিরিক্ত মালামাল তুলছে আবার ধারণ ক্ষমতার অধিক যাত্রী তুলছে। ফলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, ভোলার ২২টি রুটের মধ্যে যেসব রুট বর্ষা মৌসুমে সবচেয়ে বেমি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে সেগুলো হচ্ছে, ইলিশা-মজু চৌধূরীর হাট, ভেলুমিয়া-ধুলিয়া, হাকিমুদ্দি-তজুমদ্দিন, চরফ্যাশনের কচ্ছপিয়া-ঢালচর-কুকরী মুকরী, বেতুয়া-মনপুরা, তজুমদ্দিন মনপুরা-চর জহির উদ্দিন, নাজিরপুর-কালাইয়া, হাকিমুদ্দি-আলেকজান্ডার, মনপুরা-হাতিয়া, দৌলতখান-আলেকজান্ডার-মনপুরা, লক্ষীপুর প্রভৃতি।

এ বিষয়ে ভোলার জেলা প্রশাসক মো. সেলিম রেজা বলেন, অবৈধভাবে চলাচলকারী এসব লঞ্চের বিরুদ্ধে প্রশাসন অভিযান চালাচ্ছে। আর বিকল্প নৌযান চলাচলের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল অঞ্চলের যুগ্ম পরিচালক মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ভোলার উপকূলের অধিকাংশ জায়গা মেঘনার ডেঞ্জার জোনের আওতায়। তাই এসব রুটে যাতে ছোট লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল করতে না পারে সেদিকে নজর রেখে নিয়মিত অভিযান চলছে।

ঢাকা, ৭ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই