দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চালে পরিবহণ ধর্মঘট অব্যাহত থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভারত ফেরত পাসপোর্ট যাত্রীরা। সোহাগ পরিবহণের চালকের নিঃশর্ত মুক্তি ও মধুখালি থানার ওসি প্রত্যাহারের দাবিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে চলছে এ ধর্মঘট।

যাত্রীদের অনেকেই দেশে ফিরে আটকে গেছেন বেনাপোল বন্দরে। তাদের কারো কাছে টাকা আছে, আবার কারো কাছে বাড়ি ফেরার পয়সা ছাড়া অন্য কোন টাকা নেই। তাও যদি বন্দরে বসেই এই টাকা খরচ হয়ে যায় তাহলে বাড়ি ফেরা দায় হয়েই যাবে।

গত দুই দিনে বেনাপোল স্থল বন্দর চেকপোস্টে কয়েক শ ভারত ফেরত যাত্রী আটকা পড়েছে। এ সব যাত্রীদের কাছে টাকা আছে তারা ইজি বাইক, ভ্যান রিকশা নিয়ে যশোরে এসে তারপর ট্রেনে করে রাজধানী ডাকাসহ অন্যান্য স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

সব চেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে শিশুদের। গরমে শিশু বৃদ্ধদের কষ্ট না দেখলে কেউ বুঝতে পারবে না এই গরমের কষ্ট কি? আর অন্যান্য যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই।

বাংলাদেশ পরিবহণ সংস্থা শ্রমিক সমিতির সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু জানান, পরিবহণ ডাকাতি মামলায় মধুখালি থানার ওসি সোহাগ পরিবহণের চালক আইনালকে আটক করে।

শ্রমিক নেতারা বার বার বলার পরও মধুখালি থানার ওসি শ্রমিক নেতাদের কোন কথায় আমলে নেননি।

এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য পরিবহণ ধর্মঘটের ডাক দেন। আর এই ধর্মঘটের কারণে হঠাৎ করেই ঢাকার সঙ্গে সকল পরিবহণ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

ফলে হয়রানি আর ভোগান্তির কবলে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। রাতে শ্রমিক সমিতির সভাপতি জানান, সোহাগ পরিবহণের চালক আইনালের মুক্তি এবং মধুখালি থানার ওসি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাদের এই ধর্মঘট চলবে।

তিনি বৃহস্পতিবার সকালে জানান, আজকের মধ্যে যদি আটক ড্রাইভার আইনালের জামিন না হয় তাহলে শুক্রবার থেকে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চালের ১৮ রুটে পরিবহণ ধর্মঘট শুরু হবে।

আর এই ১৮টি রুটে পরিবহণ ধর্মঘট শুরু হলে এ অঞ্চলের গোটা যোগাযোগ ব্যবস্থাই ভেঙে পড়বে। তাই শ্রমিক নেতারা অবিলম্বে আটক সোহাগ পরিবহণ চালকের মুক্তি দাবি করেছেন।

এমকে