কুষ্টিয়া জেলার নির্মাণাধীন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ১২ তলা ভিত্তির ৬ তলা নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় নির্মাণ কাজের নানা সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি এই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন তৎকালীন আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। সেই সময় ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবদুল খালেক।
দরপত্র অনুযায়ী উক্ত নির্মাণ কাজটির জন্য অর্থ বরাদ্দ ছিল প্রায় ১৬ কোটি টাকা। পরবর্তীকালে ওই বরাদ্দকৃত অর্থ বর্ধিত করে ২১ কোটি টাকা করা হলেও কাজের মেয়াদ দেয়া ছিল ৩০ মাস। মেয়াদের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার নির্দেশ থাকলেও ৩০ জুন ২৮ মাস অতিবাহিত হবে। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে কাজের কোন রকম অগ্রগতি হয়নি বরং দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় দুঃখ-দুর্দশা বেড়েছে এ আদালতের বিচারক, আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীদের মাঝে। লক্ষ্য করা গেছে চাপা ক্ষোভ। বর্তমানে এ আদালতের কার্যক্রম চলছে পার্শ্ববর্তী অস্থায়ী ভবনে।
জানা গেছে, বর্তমানে ৭টি এজলাসে ৫ জন বিচারক বিচারকার্য পরিচালনা করছেন। অনেক যোগাযোগের পরও কোন বিচারক এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
তবে জানা গেছে, বন্ধ হয়ে থাকা নির্মাণাধীন নতুন ভবনটি আগামী ১০০ বছরের পরিকল্পনায় করা হচ্ছে যেখানে ২০টি এজলাসে ২০ জন বিচারক আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। কিন্তু বর্তমানে যে ভবনে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কার্যক্রম চলছে তা সংকীর্ণ মাত্র ৭টি এজলাসে বিচারকার্য চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সরে জমিনে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ভবনের কয়েকটি পিলার বসানো হয়েছে এবং পিলারের জন্য তৈরি বেশ কয়েকটি রডের খাঁচি তৈরি করে ফেলে রাখা হয়েছে। আর সেইসব পিলারের এবং খাঁচির রডগুলো দীর্ঘদিন বৃষ্টিতে ভিজে জং ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে সেখানে দেখা মেলেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোন ব্যক্তির সঙ্গে।
কুষ্টিয়ায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কুষ্টিয়ার যাত্রা শুরু হওয়া থেকে বিভিন্ন সমস্যার মধ্য দিয়ে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম চলছে জেলা প্রশাসকের ভবনে ও জেলা জজশিপের বিভিন্ন রুমে। এদিকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্মাণাধীন কাজ দীর্ঘর্দিন বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা।
কুষ্টিয়া কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক এপিপি অ্যাডভোকেট কুতুবুল আলম নতুন বলেন, বর্তমান জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ছোট ছোট রুমে বিচারক ও উকিলদের বিচারকার্য পরিচালনা করতে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
কোর্টের আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুন্সী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান ভবনে আইনজীবীদের বসার নির্দিষ্ট কোন স্থান নেই। এছাড়া এজলাস কম হওয়ার কারণে একই এজলাসে সকাল-বিকাল বিচারকার্য পরিচালনায় সবাইকে ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়।
সূত্র জানায়, গণপূর্ত বিভাগের নিয়ন্ত্রণে কাজটি বাস্তবায়নে কথা থাকলেও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদাসীনতা এবং অদক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দেয়ার কারণে গুরুত্বপূর্ণ ভবনটি নির্মাণের এই হাল সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকা, ২৮ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর





