কেউই আইনের উর্ধ্বে নয়। বহুল পঠিত এই নীতিবাক্যটি এখন অনেকটাই কেতাবি বচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আর এমনই পটভূমিতে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার সাহসী ট্রাফিক পুলিশ কিছুটা হলেও এই কেতাবি নীতিবাক্যটির খানিকটা প্রয়োগ দেখালেন। আইনের শাসনের আকালের এই সময়ে তাই ট্রাফিক পুলিশের স্বাভাবিক কাজটিই যেন মহান কর্ম হয়ে ধরা পড়ে সাংবাদিকসহ প্রত্যক্ষদর্শীদের দৃষ্টিতে।
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার ব্যস্ত সড়কে যেখানে হর-হামেশা ট্রাফিক আইন না মেনে গাড়ি চলাচলের দৃশ্য দেখা যায়, সেখানে সরকারি মালিকানাধিন বিআরটিসির গাড়ি জব্দ করার এই দৃশ্য সবারই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। নানা অনিয়ম ও ঘুষ কেলেংকারিতে জর্জরিত ট্রাফিক পুলিশের মাঝেও যে কিছু সৎ ও সাহসী পুলিশ রয়েছেন এই দৃশ্য যেন সে কথাই স্মরণ করিয়ে দিল।
সোমবার (১৮ই জানুয়ারি ২০১৬) বিআরটিসির একটি বাসের ড্রাইভার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় পরদিন (১৯ জানুয়ারি ২০১৬) ফার্মগেট এলাকায় ওই বাসটিকে জব্দ করেন একজন ট্রাফিক সার্জন। সরকারের মালিকানাধিন বাসকে এভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনার এই দৃশ্য অনেকের কাছেই ছিল বিরল।
বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে লাল-সবুজ রংয়ের বিআরটিসির বাসগুলো কোন নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে যেভাবে রাজধানীজুড়ে ধাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাতে নগরবাসী ধরেই নিয়েছিলেন এগুলো বোধহয় সব আইন-কানুনের উর্ধ্বে।
কিন্তু ফার্মগেট এলাকার কয়েকজন সাহসী ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে আজ (মঙ্গলবার-১৯ জানুয়ারি ২০১৬) সকালে অন্যরকম দৃশ্যে দেখা গেল। ফার্মগেট-ইন্দিরা সড়কে ওই পুলিশ সদস্যদের দেখা গেল কোন ধরনের জড়তা ছাড়াই বিআরটিসির একটি বাসকে জব্দ করতে। বাসটির ড্রাইভারের কাছে দায়িত্বরত সার্জন বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে ওই ড্রাইভার তা দেখাতে পারেননি।
এই ঘটনা শুধু আজকেই নতুন নয়। ফার্মগেট এলাকার ট্রাফিক পুলিশকে এর আগেও এমন সাহসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যায়। তবে, এমন সাহসী পদক্ষেপ নিতে এই এলাকার ট্রাফিক পুলিশকে আর কতটা সুযোগ দেয়া হবে তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় রয়েছে।
রাজধানীর সব জায়গার ট্রাফিক পুলিশ এমন সাহসী হলে এবং সারাক্ষণ মূল দায়িত্ব বাদ দিয়ে ঘুষ খাওয়ার ধান্দায় না থাকলে ঢাকা শহরের গোটা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এর সুফল পড়তো বলেই মনে করেন নগরবাসী।
ঢাকা শহরে প্রায় প্রতিনিয়তই দেখা যায় বিভিন্ন ভিআইপি সড়কে রিক্সা চলাচল নিষিদ্ধ। কিন্তু দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের হাতের মুঠোয় ৫ কিংবা ১০ টাকা ধরিয়ে দিলেই ওই রাস্তায় রিক্সা চলাচলে আর বাধা থাকে না।
এছাড়া, রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনের মূল কাজ বাদ দিয়ে ট্রাফিক সার্জনসহ অধিকাংশ সদস্যরা তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করতে থাকেন কখন একটি মালবোঝাই ট্রাক বা পিকআপ ভ্যান আসবে। এই ধরনের কোন গাড়ি চোখে পড়ামাত্র তার ওপর হামলে পড়েন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। যতক্ষণ পর্যন্ত মোটা অংকের উৎকোচ আদায় না হয় চলতে থাকে কচলাকচলি। এদিকে রাস্তায় লেগে যায় লম্বা জ্যাম।
এই ধরনের দৃশ্য যেন আর দেখা না যায়। সব জায়গায় যেন ফার্মগেটের ওই সাহসী ট্রাফিক পুলিশের মতো দৃশ্য দেখা যায় নগরবাসীর সেটাই কামনা।
(তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার)
কেবি





