জরাজীর্ণ ভবনগুলোর ছাদ ও দেয়াল থেকে খসে পড়েছে পলেস্তরা। বেরিয়ে এসেছে ছাদ ও বিমে মরীচিকা ধরা রড। সামান্য বৃষ্টিতেই ভবনের ছাদ থেকে চুইয়ে পানি পড়ে কক্ষে। এমন দুরাবস্থার চিত্র মিলেবে দেশের প্রায় প্রতিটি উপজেলাতেই।
ঝুঁকিপূর্ণ এমন স্কুল ভবন সংস্কার বা নতুন ভবন তৈরির কাজে ধীরগতির কারণে বিপাকে পড়েছে শিশু শিক্ষার্থীরা। প্রতিনিয়ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ঝুঁকি বাড়ছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের চাহিদা অনুযায়ী সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ হচ্ছে না।
এ কারণে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস হচ্ছে। কোথাও ক্লাস হচ্ছে পরিত্যক্ত ভবনে। আবার কোথাও ঝুঁকি এড়াতে ভবনের বাইরে মাঠে ক্লাস হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, শ্রেণিকক্ষ বা স্কুল ভবন সংস্কার বা পুননির্মাণের জন্য অধিদপ্তরে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও কোনো লাভ হচ্ছে না।
এ কারণে অনেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সুপারিশ নিয়ে আসছেন। যে চিঠিতে অধিদপ্তর সেখানে ‘জরুরি’ সিল দিয়ে সংস্কার বা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। কোথাও কোথাও সরকারি অনুদানে অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষও তৈরি হচ্ছে, যার সংখ্যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম।
জামালপুর জেলায় ১৮২ টি স্কুল ঝুঁকিপূর্ণ যেগুলো ভেঙে নতুন ভবন করার জন্য অধিদপ্তরকে জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। সম্প্রতি বদলি হয়ে যাওয়া শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ১৬টি বিদ্যালয়ের বরাদ্দ নিয়ে অস্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করা গেছে। বাকিগুলোর অবস্থা করুন বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ই ঝুঁকিপূর্ণ। নেই কোনো বিকল্প ব্যবস্থাও। ফলে ঝুঁকি নিয়ে এসব স্কুল ভবনে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালানো হচ্ছে। এমন চিত্র সারা দেশেরই।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ২০১২ সালে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। কিন্তু চার বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটির আওতাভুক্ত বিদ্যালয়ের অর্ধেকেই ভবন নির্মাণ হয়নি।
মেয়াদ ও ব্যয় বাড়লেও প্রকল্প বাস্তবায়নে নেই প্রত্যাশিত গতি। সেখানে বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ হয়েছে, সেখানে দেওয়া হয়নি বিদুত্ সংযোগ। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই টিউবওয়েল বসানোর পাশাপাশি শৌচাগার নির্মাণও বাকি রয়েছে।
২০০৩ সালে পরিচালিত স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, দেশে ৩৭ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০ হাজার প্রতিষ্ঠানই ছিল জরাজীর্ণ। এর মধ্যে কিছু ভবন সংস্কার হয়েছে। নতুন করে জরাজীর্ণ ভবনের সংখ্যা আরো বাড়ছে।
সব মিলে এখনও ১০ হাজারের বেশি স্কুল জরাজীর্ণ রয়েছে এমনটি বলছেন মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা। আর নানামুখী সমস্যায় রয়েছে আরো ১০ হাজার স্কুল।
এমএনজে





