ঢাকার গুলশান হামলার ‘অপারেশন কমান্ডার’ নুরুল ইসলাম মারজানের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর গতকাল সোমবার রাত থেকে তার বাবা নিজাম উদ্দিনের খোঁজ নেই বলে স্বজনেরা দাবি করেছেন।
তাদের অভিযোগ, সাদাপোশাকধারী কিছু লোক মোটরসাইকেলে করে তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে গেছে। তবে পাবনার পুলিশ বলছে, তারা এ বিষয়ে কিছু জানে না।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের আফুরিয়া গ্রামে মারজানদের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, বাড়িতে স্বজন, প্রতিবেশী ও উৎসুক জনতার ভিড়। জেলা পুলিশের একটি দল কথা বলছে স্বজনদের সঙ্গে। একটি ঘরে শুয়ে আছেন মারজানের মা সালমা খাতুন। তাকে ঘিরে বসে আছে ছোট সন্তানেরা।
প্রতিবেশী ও স্বজনদের ভাষ্য, গতকাল রাত নয়টার দিকে তিনটি মোটরসাইকেলে করে কিছু কয়েকজন লোক মারজানদের বাড়িতে যায়। তারা মারজানের বাবার সঙ্গে কথা বলার জন্য তাকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে কথাও বলে। এরপর তাকে নিয়ে চলে যায় ওই লোকগুলো।
মারজানের মা সালমা খাতুনের ভাষ্য, গতকাল রাতে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাত ১০টার দিকে বাড়ি ফেরেন তিনি। তবে বাড়ি ফিরে আর স্বামীকে দেখছেন না। তিনি বলেন, তার স্বামী সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিনি না থাকলে শিশুসন্তানগুলো না খেয়ে মরবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মারজানের এক চাচাতো বোন বলেন, মারজানের ১০ ভাই-বোনের মধ্যে সাতটিই শিশু। মারজান অপরাধ করলে তার শাস্তি হোক। কিন্তু তার বাবাকে যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি কোথায় আছেন, সে খবরটা যেন জানানো হয়।
জানতে চাইলে পাবনার পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর বলেন, পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর জেলা পুলিশের একটি দল তদন্ত শুরু করেছে। তবে কাউকে তুলে আনা হয়নি। মারজানের বাবা তাঁদের হেফাজতে নেই বলে তিনি দাবি করেন।
এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, এ ব্যাপারে তারাও কিছু জানেন না।
মারজানের বিষয়ে তথ্য চেয়ে গত শুক্রবার পুলিশের বিশেষ অ্যাপ ‘হ্যালো সিটিতে’ ছবি প্রকাশিত হয়। ওই অ্যাপে তাকে গুলশান হামলার ‘অপারেশন কমান্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর জানা যায়, তার নাম নুরুল ইসলাম মারজান। বাবার নাম নিজাম উদ্দিন ও মায়ের নাম সালমা খাতুন। পরিবারের ১০ ভাই-বোনের মধ্যে মারজান দ্বিতীয়।
তিনি স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে ভর্তি হন পাবনা জেলা শহরের পুরাতন বাঁশবাজার আহলে হাদিস কওমি মাদ্রাসায়। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি পাবনা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে দাখিল ও আলিম পাস করেন। ২০১৪ সালে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে। দেড় বছর আগে খালাতো বোন প্রিয়তিকে বিয়ে করেন। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িছাড়া হন মারজান। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বন্ধ বলে মা-বাবা দাবি করেছেন।
ইআর





