নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবায় রয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। আছে আধুনিক সব যন্ত্রপাতি। প্রয়োজনীয় সম্পদ ও লোকবলের অভাব থাকলেও সেবা প্রদানে নিয়োজিত ব্যক্তিদের আন্তরিকতায় ঘাটতি নেই।

এসব কারণে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল নবজাতকের যত্ন ও সেবায় গরিব মানুষের ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে। মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবায় আবদান রাখার জন্য এ বছর জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার পেয়েছে হাসপাতালটি।

সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শাহজাহান নেওয়াজ জানান, এ অঞ্চলে শীতের সময় (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) নবজাতক ও শিশুরা শীতজনিত রোগে ভোগে। শয্যা-সঙ্কটের কারণে তীব্র ঠান্ডায়ও তাদের হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হত। ২০০৯ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু হ্রাসের ক্ষেত্রে অগ্রগতি ত্বরান্বিতকরণ প্রকল্প (এমএনএইচ) শুরু হওয়ার পর বিষয়টি প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের নজরে আসে।

পরে এমএনএইচ ঠাকুরগাঁও জেলা কমিটি সদর হাসপাতালে আলাদা একটি ‘নবজাতকের যত্ন ইউনিট’ নির্মাণ করে সেখানে ওষুধ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং জনবল নিয়োগ করে তাদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এমএনএইচ প্রকল্প প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে নবজাতক ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। ২০১১ সালে পানিসম্পদ মন্ত্রী ও জেলা এমএনএইচ কমিটির সভাপতি রমেশ চন্দ্র সেন ইউনিটটির উদ্বোধন করেন।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ইউনিটে রয়েছে ইনকিউবেটর, ফটোথেরাপি যন্ত্র, ওয়ার্ম মেশিন, বেবি সাকার, কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র, ওজন পরিমাপক যন্ত্র ও নেবুলাইজার। মানসম্মত ওষুধ সরবরাহের জন্য দেশের নামকরা ১০টি ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে ওষুধ কেনা হচ্ছে।

নবজাতকের সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের সেবিকার পাশাপাশি এমএনএইচ প্রকল্প থেকে চারজন সেবিকা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নবজাতকের যত্ন ও সেবা বিষয়ে চিকিৎসক ও সেবিকারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং ইনকিউবেটর ব্যবহারের ওপর রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার কামারপাড়া গ্রামের মিনা বেগম ছেলেকে নিয়ে নবজাতকের যত্ন ইউনিটে ফটোথেরাপি দেয়ার সময় বলেন, ‘ভালো সেবা পাও বলিয়া এইঠে আসিছু। দেবীগঞ্জের ডাক্তাররা হামাক ছয়া ধরিয়া রংপুরে যাবা কহিছিল। ওইঠে না যায়ে এই হাসপাতালত আসিছু। এলা হামার ছুয়া ভালো আছে।’

ইউনিটের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক শাহজাহান নেওয়াজ বলেন, এখানে ১৭টি শয্যার ব্যবস্থা থাকলেও প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৬টি নবজাতক সেবা নেয়। ইউনিট স্থাপনের আগে হাসপাতালে কমপক্ষে ১০ শতাংশ নবজাতক মারা যেত। এখন সেই হার কমে দুই থেকে তিন শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন শাহাদাৎ হোসেন বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা নবজাতকের যত্ন ইউনিটটি জেলার শিশু মৃত্যুরোধে ভূমিকা রেখেছে। যার জন্য আমরা গর্ববোধ করতে পারি।

জেআই