স্বর্ণালঙ্কারের জন্যই দুই শিশুকে হত্যা করে তাদেরই প্রতিবেশি লাকি আক্তার। এমনটাই জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম।
এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া লাকি আক্তার চাঁপাইনবাবগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জুয়েল অধিকারীর আদালতে বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘লাকি আক্তার ঋণগ্রস্থ ছিল। ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য পাওনাদাররা তাকে চাপ দিচ্ছিল।
হঠাৎ করেই সে টাকা সংগ্রহের চাপ অনুভব করাতে ওই দুটি বাচ্চার কাছে যে স্বর্ণের চেন ও কানের দুল ছিল তা আত্মসাৎ করতে চায়। এ উদেশ্যেই সে শিশু দুইটিকে আটকে রাখে। এরপর স্বর্ণগুলো হাতিয়ে নেয়। এরপর সে সেগুলো বাজারে বিক্রি করে ও কিছু কিছু করে পাওনাদারদের টাকা শোধ করে।’
মোজাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অপহরণের পর বক্স খাটের নিচে শিশু দুইটিকে শুইয়ে রাখে লাকি। যেহেতু বক্স খাটের উপর তোষক ও কাপড় ছিল তাই পুরো অক্সিজেন বন্ধ হয়ে এ দুটি বাচ্চা মারা যায়। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তার শ্বশুর ইয়াসিন আলী (৬৫) ও শাশুড়ি তানজিলা খাতুন (৫০) পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে আপতত তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার নিখোঁজ হওয়ার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইয়াসিন আলীর বাড়িতে লাকী আক্তারের ঘর থেকে ভবানীপুর-ফতেপুর মহল্লার মিলন রানার মেয়ে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন ও প্রতিবেশী আব্দুল মালেকের মেয়ে মেহজাবিন আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়।
এমএনজে





