সোমবার (১৮ মে) অ্যাটকোর সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। রোববার (১৭ মে) অ্যাটকোর পক্ষ থেকে ভুলবশত যেই অনাপত্তি পত্র বিষয়ক জরুরি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে তা প্রত্যাহার করা হল।
এ বিষয়ে আর কোনো জটিলতা বা প্রতিবন্ধকতা যেন সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখার জন্যও বিনীত অনুরোধ করেছে অ্যাটকো।
এর আগে রোববার এনওসি সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অ্যাটকো। সেখানে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকাকালীন অথবা অব্যাহতির পর যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি পত্র বা ছাড়পত্র গ্রহণ না করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী, অন্য কোনো টেলিভিশন চ্যানেলে যোগদানের আগে কর্মরত বা সর্বশেষ কর্মস্থল থেকে অনাপত্তি পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক।
বিষয়গুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করা জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়ে অ্যাটকো আরও জানায়, নতুন কর্মস্থলে যোগদানের আগে অবশ্যই বর্তমান কোম্পানি থেকে অনাপত্তি পত্র/ ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে; অনাপত্তি পত্র ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি গ্রহণ করলে বা যোগ দিলে ওই কর্মচারী প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ভঙ্গ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।
এ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর টেলিভিশনে কর্মরত অনেকের মধ্যে আলোচনার-সমালোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে অনেকেই লেখালিখি করেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, এসোসিয়েশন অফ টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (এটকো) ঠিক কোন ক্ষমতাবলে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে? এই চিঠি সরাসরি বাংলাদেশের শ্রম আইনে সাথে সাংঘর্ষিক এবং মালিক পক্ষের দাসত্ব মনোবৃত্তি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
তিনি লেখেন, একজন কর্মীর তার চাকরি পরিবর্তনের সম্পূর্ণ আইনি অধিকার আছে। তিনি চাইলে নোটিশ পিরিয়ড পূর্ণ করে পদত্যাগ করতে পারেন, এবং পরবর্তীতে তার পছন্দমত যেকোন প্রতিষ্ঠানে যোগদান করতে পারবেন।
তিনি আরও লেখেন, নতুন চাকরিতে যোগদান করার জন্যে পূর্বের কর্মস্থল হতে কোন নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট বা এনওসির প্রশ্নই আসেনা! আশা করছি এটকো সংশ্লিষ্টরা দ্রুত এধরনের শোষণ প্রবণতা থেকে সরে আসবেন, এবং এই চিঠি উইথড্র করবেন।
এনএইচ