মাগুরার চারটি উপজেলার দুই শতাধিক মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসায় জাতীয় পাঠ্যক্রমের বাইরের কয়েকটি বই পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর পিছনে রয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকার বাণিজ্য। শিক্ষক সমিতি প্রকাশনা সংস্থার কাছ থেকে এই টাকা নিয়ে এ কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মহম্মদপুর বাজারে বই ঘর-এ সপ্তম শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি দুটি ব্যাকরণ বই কিনছিলেন অভিভাবক শরিফুল আলম। এ সময় তিনি বলেন, ‘সরকার তো সবাইরি সব বই ফ্রি দেচ্ছে।
কিন্তু তার পরও বাধ্য হয়ে আমাদের হাজার টাকা খরচ করে সমিতির গ্রামার বই কিনতে হচ্ছে। একই ধরনের কথা বলেন অভিভাবক হিরন রায়সহ কয়েকজন। তারা বলেন, স্কুলের শিক্ষকেরা বুক লিস্ট ধরিয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘এই সব বই কেনা বাধ্যতামূলক।’
শ্রীপুর মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও কাজলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, ‘হাইকোর্ট থেকে নোট ও গাইড ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার ওপর তিন মাসের স্থগিতাদেশ থাকায় এখন আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। তা ছাড়া সরকারি বইয়ে সবকিছু না থাকায় আমরা ন্যূনতম টাকার বিনিময়ে ব্যাকরণ বইয়ের তালিকা প্রকাশ করেছি।’
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, মাগুরা সদর, শ্রীপুর, মহম্মদপুর ও শালিখা উপজেলায় ২৩২টি মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল ও মাদ্রাসা রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে নবম শেণি পর্যন্ত ৫৫ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। ইতিমধ্যে সরকারিভাবে এসব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার প্রায় সবকটি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে বইগুলো চালু করে। বিভিন্ন প্রকাশনীর এসব বাংলা ব্যাকরণ ও ইংরেজি গ্রামার বই শ্রেণি ভেদে ২৩৫ টাকাথেকে শুরু করে ৪৬০ টাকা পর্যন্ত দাম রয়েছে।’
সপ্তম শ্রেণির উল্লেখ করে ওই একই নামে ২৪৫ টাকা দামের বাংলা ও ৩৪৮ টাকা দামের ইংরেজি ব্যাকরণ। অষ্টম শ্রেণীর জন্য ৩৬০ টাকা ৪০৫ টাকা দামের বই রয়েছে। নবম শ্রেণির জন্য ৩৮৫ টাকা এবং ৪৬০ টাকা দামের বই রয়েছে’।
এ ছাড়া সব শ্রেণির জন্য কাজল ব্রাদার্সের অনুপম সৃজনশীল ৫৭০ টাকা দামের ‘একের ভিতর সব’, ৮৫০ টাকা দামের ‘জেএসসি জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেটপরীক্ষার প্রস্তুতি’ও এক হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার টাকা দামের নবম শ্রেণির বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার গাইড বই রয়েছে। বাজারের অন্য বইয়ের তুলনায় সমিতির তালিকাভুক্ত এসব বইয়ের মূল্য অনেক বেশি। অতিরিক্ত টাকা তুলতে বইয়ের অস্বাভাবিক দাম বাড়ানো হয়েছে।
মহম্মদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আহম্মেদ কবি বলেন, ‘কত টাকা পাওয়া গেছে, তার পরিমাণ এখন বলতে পারছি না।’সরকারি বই থাকতেও আপনারা কেন অতিরিক্ত বই দিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি উত্তর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন ।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমিতির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘শুনেছি, ২৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছে। কিন্তু ব্যাংকে জমা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা।’তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের জোর করে এসব বই কিনতে বাধ্য করা হয়। শ্রেণি কক্ষে বই না থাকলে গাল-মন্দ এমনকি শাস্তি নেমে আসে। এ ছাড়া সমিতি প্রশ্ন দেয়ায় এসব বই থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন কমন পড়ে। শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়েই বই কিনে থাকে।
মাগুরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল কুমার বিশ্বাস বলেন, সরকার এখন সব বই বিনামূল্যে দিচ্ছে। অন্য বই কেনার জন্য বাধ্য করা বেআইনি।’
এ বিষয়ে মাগুরার জেলা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহাদত হোসেন বলেন, ‘আমি খুব দ্রুতই এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেব।’
এমকে





