প্রতারণা ও জালিয়াতিসহ কতিপয় মামলার তদন্তভার আগের মতো পুলিশের হাতে থাকলে এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার হলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলাগুলোর গতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার (০৯ জুন) সকালে জাতীয় সংসদে দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) বিল-২০১৬ সংশোধিত আকারে পাস হওয়ায় পর সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দুদক কার্যালয়ে বিকেলে এ কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান।
দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, আইন যেভাবে হবে আমরা সেভাবে চলবো, এটাই স্বাভাবিক।
এই আইন সংশোধনের ফলে দুদকের উপর বিভিন্ন মামলার যে চাপ ছিল তা কমবে। এছাড়া নিজস্ব মামলা আরও দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার সক্ষমতা অর্জন করবে দুদক।
তবে আইনটি পূর্ণাঙ্গ হয়ে আসলে এতে আরও যেসব বিষয় রয়েছে তা বিস্তারিত বলা যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সকালে দশম জাতীয় সংসদের একাদশতম অধিবেশনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর প্রস্তাবে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) বিল-২০১৬’ সংশোধিত আকারে পাস হয়।
জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, সেলিম উদ্দিন, নুরুল ইসলাম মিলন, নুরুল ইসলাম ওমর, বেগম নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, ফখরুল ইমাম, স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী ও আব্দুল মতিন বিলের ওপর সংশোধনী প্রস্তাব আনেন ও জনমত যাচাই বাছাইয়ের প্রস্তাব করেন। পরে এর ওপর সংশোধনী গ্রহণ করা হয়। বাকি প্রস্তাবগুলো কন্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বিলটি পাসের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে দিলে তা সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।
বিলে বিদ্যমান আইনের ধারা ২-এর (ক) দফার (কক) দফা সংজ্ঞায়িত করা হয়। সংজ্ঞায়িত (কক) এর পূর্বে দফা (ক) সন্নিবেশ করা হয়।
নতুন দফায় বলা হয়, ‘অনুসন্ধান’ অর্থ, তফসিলভুক্ত কোনো অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগপ্রাপ্ত বা জ্ঞাত হওয়ার পর উহা কমিশন কর্তৃক তদন্ত অনুষ্ঠানের জন্য গৃহীত ও লিপিবদ্ধ হওয়ার আগে উক্ত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা উদঘাটনের লক্ষ্যে কমিশন বা তদন্ত দল কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি কর্তৃক পরিচালিত কার্যক্রম।
বিলে বিদ্যমান আইনের ধারা ২০-এর (ক) উপান্ত টিকায় উল্লেখিত তদন্তের ক্ষমতা শব্দগুলোর পরিবর্তে অনুসন্ধান বা তদন্তের ক্ষমতা শব্দগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া উপধারা ১-এর উল্লেখিত তদন্তযোগ্য শব্দের পরিবর্তে অনুসন্ধানযোগ্য বা তদন্তযোগ্য শব্দগুলোর প্রতিস্থাপন করা হয়।
বিলে বিদ্যমান আইনের ধারা ২৮ক-এর পরিবর্তে নতুন ২৮ক প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। নতুন ধারায় বলা হয়, এই আইনের অধীনে অপরাধসমূহে আমযোগ্যতা, জামিনযোগ্যতার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর সিডিউল ২-এর বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে।
বিলে বিদ্যমান আইনের তফসিলের পরিবর্তে নতুন তফসিল প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। নতুন তফসিলে বলা হয়, এই আইনের অপরাধসমূহ হচ্ছে দণ্ডবিধির বিভিন্ন সেকশনের অধীন অপরাধসমূহ।
সেকশন ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭এ-এর অধীন কোনো অপরাধ সরকারি সম্পর্কিত হলে অথবা সরকারি কর্মচারী বা ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক দায়িত্ব পালনকালে সংগঠিত হলে কেবল সেই ক্ষেত্রে বর্ণিত অপরাধসমূহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-১৯৪৭-এর অধীন অপরাধসমূহ, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২’র অধীন ঘুষ ও দুর্নীতি সংক্রান্ত অপরাধসমূহ, দণ্ডবিধি ১০৯, ১২০বি এবং ৫১১-এর অধীন অপরাধসমূহ।
বিলে এসব অপরাধসমূহ দুর্নীতি দমন কমিশনে অনুসন্ধানাতীত তদন্তাধীন, বিবেচনাধীন থাকলে তার এখতিয়ার তদন্ত সংস্থা ও সম্পন্ন আদালতে স্থানান্তরিত করার বিধান করা হয়।
ওএফ





