হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জে গজনাইপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আবুল খায়ের গোলাপের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেছেন বীরাঙ্গনা সুকুরী বিবি (৬৫)।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সোমবার মামলাটি দায়ের করা হলেও ঘটনা জানাজানি হয় বুধবার সকালে।
সুকুরী বিবির অভিযোগ, ১৯৭১ সালের ১২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে আবুল খায়ের গোলাপ সুকুরী বিবিকে তার বাড়ি থেকে ধরে এনে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেন। পরে পাকসেনারা ও গোলাপ তাকে ‘একাধিকবার ধর্ষণ’ করেন। এ ছাড়াও গোলাপ নানা বয়সী নারীদের ধরে এনে ‘ধর্ষণ’ করতেন বলে উল্লেখ করেছেন।
সুকুরী বিবি আরও উল্লেখ করেছেন, গণহত্যা, লুটপাট, বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত ছিলেন গোলাপ।
সুকুরী বিবি বলেন, ‘১৯৭১ সালের স্মৃতি আজও ভুলতে পারিনি। বর্তমান সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সুষ্ঠু বিচারের উদ্যোগ নেওয়ায় আমি এ অভিযোগটি দায়ের করার সাহস পেয়েছি।’
সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে আমার অনুরোধ, মৃত্যুর আগে এই অত্যাচারের বিচার দেখে যেতে চাই।’
এর আগে ২০০৯ সালের ১৯ অক্টোবর হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ আবুল খায়ের গোলাপের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে গেদু মিয়া বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় চলতি বছর ৩১ জানুয়ারি হবিগঞ্জ গোয়েন্দা শাখা ডিবি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
গেদু মিয়ার ছেলে মো. রাজু আহমেদ জানান, মামলাটির তদন্ত চলাকালে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর বাসচাপায় নিহত হন মামলার বাদী গেদু মিয়া। পরে আবুল খায়ের গোলাপের বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিতভাবে বাসচাপা দিয়ে হত্যা’র অভিযোগ এনে রাজু একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ওএফ





