বরগুনায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ৫০, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ ও মংলা পৌরসভার নিম্নাঞ্চলসহ ৩০ এবং কক্সবাজারে ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
বরগুনা প্রতিনিধি জানান, পূর্ণিমার জোয়ারের চাপে বরগুনার বিষখালী, বুড়িশ্বর, বলেশ্বর ও খাকদোন নদীতে বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় নতুন করে বরগুনা, বেতাগী, পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে বরগুনা, বেতাগী, পাথরঘাটা পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, নিম্নাঞ্চলসহ প্রায় ৫০টি গ্রাম।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেকর্ড অনুসারে রবিবার বরগুনার বিভিন্ন নদ-নদীতে বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটারের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, নতুন করে বেড়িবাঁধ ভাঙনের খবর পেয়েছি। জরুরি বরাদ্দ পাওয়া না গেলে এসব বাঁধ সংস্কার সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, পূর্ণিমার জোয়ারের অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির ফলে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ ও মংলা পৌরসভার নিম্নাঞ্চলসহ কমপক্ষে ৩০টি গ্রামে পানি ঢুকে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। মোরেলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের অধিকাংশ অফিসের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া গ্রামের পানিবন্দী পরিবারের সদস্যদের পড়তে হচ্ছে নানান বিড়ম্বনায়। অনেকের কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়ার আশংকা করা হচ্ছে। অন্যান্য জোয়ারের তুলনা এক থেকে দেড় ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়িবাঁধ ও বেড়িবাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চল এলাকার পরিবারগুলো দৈনিক দুবার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে।
মোরেলগঞ্জ উপজেলার পঞ্চকরণ এলাকার ফেরদৌস হোসেন মুন্সী জানান, কেওড়া নদীর দুই পারে প্রায় ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ না থাকায় এসব এলাকার গ্রামগুলোর মধ্যে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তিনি দ্রুত এসব এলাকার বেড়িবাঁধের দাবি জানান।
কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, পূর্ণিমার জোয়ারের পানি বেড়ে কক্সবাজারে নিম্নাঞ্চলীয় ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। রবিবার সকাল ১১টার জোয়ারে এসব গ্রাম প্লাবিত হয়। এর মধ্যে জেলার কুতুবদিয়া, টেকনাফ, পেকুয়া, মগনামা, শাহ পরীরদ্বীপ, মহেশখালী ও জেলা শহরের বেশ কয়েকটি গ্রাম বেশি প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত এলাকার ফসলি জমি, চিংড়ি ঘের তলিয়ে গেছে। প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ পড়েছে চরম ভোগান্তিতে।
কলাপাড়া প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পূর্ণিমার প্রভাবে বঙ্গোপসাগরসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। রবিবার সকালে কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়ক পথে আন্ধারমানিক নদী, সোনাতলা নদী ও শীববাড়িয়া নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের তিন ফরিঘাটের গ্যাংওয়ে ও রাসত্দা ৪-৫ ফুঁট তলিয়ে যায়। এর ফলে কুয়াকাটার সাথে সড়ক যোগাযোগ পাঁচ ঘন্টা জন্য বন্ধ থাকে।
ঢাকা, ১৪ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





