ভোলায় আঞ্চলিক এমআরপি পাসপোর্ট অফিসের সেবা কার্যক্রম দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে । কোন রকম ভোগান্তি ও ঝামেলা ছাড়াই প্রতিদিন পাসপোর্ট করতে আসছেন সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে ছাত্র,শিক্ষক,উকিল,ব্যবসায়ীসহ নানান ধরনের মানুষ।

প্রতিদিন ভোলার ৭টি উপজেলার থেকে আসা নারী-পুরুষ এমআরপি পাসপোর্ট সুবিধা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন। এছাড়াও নিজ জেলাতে আধুনিক ডিজিটাল পাসপোর্ট সুবিধা ও সেবা পেয়ে প্রয়োজনীয় পাসপোর্ট গ্রহন করছেন তারা। এর মধ্যে দিয়ে পাসপোর্ট গ্রহণের সেই দীর্ঘ ভোগান্তির অবসান হলো দ্বীপজেলা ভোলাবাসীর।

পাসপোর্ট অফিস সুত্র জানায়, ২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ভোলা আঞ্চলিক এমআরপি পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম।

প্রতিষ্ঠার গত ৮ মাসে এ পর্যন্ত ৮হাজার ৫০০টি পাসপোর্ট কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে (২২ এপ্রিল বুধবার দুপুর পর্যন্ত)। যারমধ্যে ডেলিভারী হয়েছে ৬হাজার ৭০০টি। পাসপোর্ট অফিসে সাধারন ফি ও জরুরী ফি নামে দুটি পৃথক কার্যক্রম চালু রয়েছে।

নিদিষ্ট কাগজপত্র সঠিকভাবে পূরণ ও প্রেরন করলেই খুব সহজেই এমআরপি পাসপোর্ট সুবিধা পেয়ে যাচ্ছেন এই জেলা মানুষ। সাধারণ সুবিধায় ২৫/৩০ দিন আর জরুরী সুবিধায় ১২/১৫ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট গ্রহণ করার সম্ভব হচ্ছে তাদের। পাসপোর্ট অফিসের ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আন্তরিকতার সাথে নিরলসভাবে জনগনকে এ সেবা প্রদান করে আসছেন।

এমআরপি পাসপোর্ট নিতে আসা কয়েকজন গ্রাহক জানান, আগে তাদের এমআরপি পাসপোর্ট করতে হলে বরিশাল কিংবা ঢাকায় যেতে হতো। সেখানে পাসপোর্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ৮/১০ দিন লেগে যেতো।

শুধু তাই নয়’ দালাল,পুলিশ, অতিরিক্ত ফি ও ভোগান্তি তো ছিলই। এছাড়া কাঙ্খিত এ এমআরপি পাসপোর্টটি হাতে পেতেই লেগে যেতো ২/৩মাস। কিন্তু নিজ জেলা ভোলাতে এমআরপি পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু হওয়ায় অনেকেই সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। ভোগান্তি ছাড়াই পেয়ে যাচ্ছেন কাঙ্খিত এমআরপি পাসপোর্ট।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ভোলা শহরের চরনোয়াবাদ এলাকায় আঞ্চলিক এমআরপি পাসপোর্ট অফিসে মানুষের ভীড়।

আঞ্চলিক এমআরপি পাসপোর্ট অফিসের স্টাফ মারুফ জানান, সঠিক তথ্য দিয়ে ফরম পুরন করে এমআরপি পাসপোর্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন মানুষ।

স্টাফ মারুফ আরো জানায় শুধু সদর নয়, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, লালমোহন, তজুমদ্দিন, মনপুরা ও চরফ্যাশন উপজেলা থেকে আসা মানুষ এক দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করে এমআরপি পাসপোর্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন।

এমআরপি পাসেপার্ট নিতে আসা গ্রাহকরা জানিয়েছেন, সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডিজিটাল এমআরপি পাসেপার্ট সার্ভিস একটি যুগান্তকারী পর্দক্ষেপ।

এতে মানুষে প্রয়োজন অনেকটা হাতের কাছাকাছি চলে এসেছে। মানুষ ভোগান্তি ছাড়ই নিজ নিজ জেলা থেকে আধুনিক উপায়ে এমআরপি পাসপোর্ট সংগ্রহ করছেন।

এ ব্যপারে ভোলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, প্রতিদিন ভোলা ৭টি উপজেলার মানুষজন এমআরপি পাসপোর্ট করতে আসছেন।

ফরম পূরন করে সঠিত তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র দাখিল করার সাথে সাথেই অফিসের কর্মকর্তারা আন্তরিকতার সাথে তাদের এমআরপি পাসপোর্ট করতে সহায়তা করছেন।

তিনি জানান, গত ৮ মাসে কেউ এমআরপি পাসেপার্ট না করে ফিরে যাননি। সবাই সফলভাবে এ কার্যক্রম করেছেন। আগামীতেও জনগনকে আন্তরিকতার সাথে সেবা প্রদান করা হবে।

খোঁজ নিয়ে আরো জানাযায়, ভোলা, দৌলতখাঁন, বোরহানউদ্দিন,লালমোহন,তজুমদ্দিন,চরফ্যাশন,মনপুরা সহ কয়েক লক্ষ্য প্রবাসী রয়েছে। তারা প্রতিমাসে শতশত কোটি টাকা রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছে আর এ প্রবাসীরা যখন তাদের পাসপোর্ট নতুন অথবা রেনু করতে পারছে।

এসএইচ