'স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আইনে' দেশে ফেরত এসেছে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচার হওয়া ২৭ বাংলাদেশি নারী ও শিশু।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি আবুল বাসার।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিজিবির হাতে তুলে দেন। কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতেই তাদেরকে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার উপ-পরিদর্শক রবিউল ইসলাম বলেন, ফেরত আসা নারী শিশুদের মধ্যে মানবাধিকার সংগঠন 'রাইটস' শিশুসহ তিন নারী ও 'জাস্টিজ অ্যান্ড কেয়ার' ২৪ জন নারীকে গ্রহণ করেছেন। তারা এক সপ্তাহের মধ্যে এসব নারী-শিশুদের নিজ পরিবারের কাছে পৌছে দেবেন ।

যারা ফেরত এলেন - নড়াইলের আসমা খাতুন,মুছকান বেগম, সোহানা আবিদ, মুন্নি আক্তার,সুমি আক্তার, মাহামুদা বেগম,খুলনার খুশি গাজি,লাবনি আক্তার, রাফিজা বেগম, রেহেনা আক্তার,ইতি খাতুন, সাবানা ইব্রাহিম,বৃষ্টি আক্তার, ময়মনসিংহের লিজা খাতুন, হালিমা আক্তার, শরিফা আক্তার, ঠাকুরগাঁওয়ের পারুল বেগম, রাজবাড়ির সীমা আক্তার, গাজীপুরের নাজমা আক্তার, টাঙ্গাইলের রিয়া খাতুন, নারায়ণগঞ্জের ফারজিনা সরদার, সাতক্ষীরার শিরিনা জাহাঙ্গীর,শাহানা ফেরদৌস, যশোরের জামিলা খাতুন,মায়া খাতুন ও ভোলার হালিমা বেগম ও শিশু রুবিনা (২) ।
এদের বয়স ১৯ থেকে ৪০ এর মধ্যে।

মানবাধিকার সংগঠন 'রাইটস' যশোরের তথ্য ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা তৌফিকুজ্জামান বলেন, মিথ্যা প্রলোভনে পাচারকারিদের খপ্পরে পড়ে এরা ২ থেকে ৫ বছর আগে অবৈধ পথে ভারতে যায়। কাজের সন্ধানে সেখানে ঘোরাঘুরির সময় পুলিশ তাদের আটক করে আদালতে পাঠায়। আদালত তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন । সেখান থেকে ভারতের একটি মানবাধিকার সংগঠন 'রেসকিউ ফাউন্ডেশন' তাদের হেফাজতে নিয়ে নিজেদের শেল্টার হোমে রাখে । পরে দু'দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে 'স্বদেশ প্রত্যাবর্তন' আইনে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে ভারত সরকার

"পাচারের শিকার নারীরা যদি পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে চায়, তাহলে তাদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।"

নাসির/জেড